খবররাজ্য

‘যা বলেছি সেটাই সত্যি,’ গ্রেফতারের পরেই বিস্ফোরক কল্যাণময়

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ গ্রেফতার হয়েই বিস্ফোরক কল্যাণময়! ‘সিবিআইকে যেটা বলেছি সেটাই সত্যি,’ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অধীনে গিয়েই মুখ খুললেন কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। যিনি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই-হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বৃহস্পতিবার। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক অভিযোগ। ভুয়ো নিয়োগপত্র তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আর সেই অভিযোগের, সেই দুর্নীতির নেপথ্যে কে? আরও বড় কোনও রাঘববোয়াল! সেই উত্তরই কি সিবিআইকে জানিয়ে দিলেন কল্যাণময়! অনেকেই বলছেন, তিনি এমন কিছু জানেন বা বলেছেন যা ঘুরিয়ে দিতে পারে এই নিয়োগ দুর্নীতির সম্পূর্ণ গতিপ্রকৃতি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, স্কুল সার্ভিস কমিশনে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মচারী নিয়োগ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। যিনি ২০২২ -এর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলপ্রকাশ পর্যন্ত পর্ষদের দায়িত্ব সামলেছেন। বৃহস্পতিবার প্রায় ৬ ঘণ্টা সিবিআই তরফে জিজ্ঞাসাবাদ চলে নিজাম প্যালেসে। বিকেলের দিকে হাতে কাগজ নিয়ে নিজাম প্যালেসে আসেন কল্যাণময়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর, আগামীকাল আদালতে তোলা হবে অভিযুক্ত এই প্রাক্তন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতিকে। সূত্রের খবর, আজ রাতে এবং আগামীকাল আদালতের তরফে হেফাজতে নেওয়ার আবেদনের অনুমতি এলে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাঁকে। দাবি, এই দুর্নীতি মামলায় অন্যতম চক্রান্তকারী হিসেবে জড়িত থাকতে পারেন তিনি। প্রভাবশালী তকমা কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি ইস্যুকে ইন্ধনের কাজ করেছেন কল্যাণময়, দাবি সিবিআইয়ের।

১০ বছর মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। অভিযোগ, এই কল্যাণময়কে সামনে রেখে দুর্নীতির সুবিধার্থে আইন বদল করেছিল রাজ্য। শোনা যায়, জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল। প্রসঙ্গত, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা এবং তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ইডির গ্রেফতারির সম্মুখীন হন। ঠিক তারপরেই ফের নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। একের পর এক গ্রেফতার আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয় একাধিক প্রভাবশালীকে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্ত নামে সিবিআই। তদন্তের গতিপ্রকৃতি এগোতেই উঠে আসে একের পর দুর্নীতির তথ্য। টালবাহানার পরে গ্রেফতার হন এসএসসির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা। সঙ্গে প্রাক্তন সচিব অশোক সাহাকেও হেফাজতে নেয় সিবিআই। অভিযুক্ত এই দুজনেই এখনও বন্দি। গত ২২ আগস্ট গ্রেফতার করা হয় এই নিয়োগ দুর্নীতিতে ‘মিডলম্যান’ অর্থাৎ দালাল হিসেবে কাজ করা প্রদীপ সিংহ নামে এক ব্যক্তিকে। এর সঙ্গেই জিজ্ঞাসাবাদ চলে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তথা স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন সভাপতি সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে। তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতেও চলে তল্লাশি। এদিকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাসের অভিযোগকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রে ধরে এগোচ্ছে সিবিআই। যেখানে নবম দশম, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অভিযোগ উঠেছে দুর্নীতির। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে না দাঁড়ালেও, ‘কাজ করতে গেলে একটু আধটু ভুল হয়’ বলে দাবিও করেছেন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, শাসক-ঘনিষ্ঠ কল্যাণময়ের গ্রেফতারি ফের অস্বস্তি বাড়াবে সরকারের, দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close