মহানগররাজ্য

হাসপাতাল না পেয়ে করোনা যোদ্ধার ঠাঁই পেলো গাছের তলায়, মর্মান্তিক চিত্র কলকাতায়

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ করোনায় আক্রান্ত হওয়া স্বত্বেও সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার চক্করে প্রান সংশয় ঘটছে এরম ঘটনা আকছার ঘটছে। ঠিক আবারও একটি রোগীর চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ উঠল কলকাতার নামী দুই হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

মালদহের কালিয়াচক ২ ব্লকের বাঙ্গিটোলা পঞ্চায়েতের আকন্দবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কমলাবালাদেবী, তিনি পেশায় একজন আশাকর্মী। বাঙ্গিটোলা বড় ফিল্ড কলোনিতে দীর্ঘদিন তিনি স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে এসেছেন। তার এলাকায় কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তিনিই নিজেই কোভিড হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস হলে যা হয়। আজ তিনি নিজেই ক্যানসারে আক্রান্ত, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার ফলে হাসপাতাল চত্বরে গাছের তলায় তার ঠাঁই হয়েছে।

কমলাদেবীর পরিবার তাকে প্রথমে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন কিন্তু সেখানে উন্নত চিকিৎসা না থাকার দরুন ১০ই সেপ্টেম্বর তাকে রেফার করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে ‘শয্যা নেই’ জানিয়ে করোন আক্রান্ত আশাকর্মীকে ভর্তি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন রোগীর পরিবার। সেই দিন থেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরের গাছের তলায় শুয়ে শুয়ে।

পরিবার সূত্রের খবর, মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পেটে ছোট একটি অস্ত্রপাচার করা হয়েছিল। কিন্ত আগস্টের শেষের দিকে অসুস্থতা বাড়লে তাকে আবারও মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার জন্ডিস ধরা পড়ে। সেখান থেকেই চিকিৎসার সুবাদে তাকে কলকাতায় ‘রেফার’ করা হয়।

কমলাদেবীর ছেলে মৃন্ময় বলেন, “ ২ সেপ্টেম্বর তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর সেখান থেকে এসএসকেএম হাসপাতালে মাকে ‘রেফার’ করা হয় । কিন্তু ‘বেড খালি নেই’ বলে মাকে ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল কতৃপক্ষ। পরের দিন আউটডোরে দেখিয়েও কতৃপক্ষের কাছে বারবার অনুরোধ করেও ভর্তি করা যায়নি মাকে। তার দাবি, বিকেলের দিকে হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানান, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে শুধু থাকার বন্দোবস্ত করে দিতে পারবেন, কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোন কথা বলতে পারবেন না।” তার অভিযোগ, মা একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং করোনা যোদ্ধা হয়েও এভাবে চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালের গাছতলায় তার পড়ে থাকা খুব দুর্ভাগ্যজনক, ওকে শেষপর্যন্ত বাঁচাতে পারব কিনা বুঝতে পারছি না।

এ নিয়ে মালদহের জেলার আশাকর্মী সংগঠনের অন্যতম নেত্রী বেবি চক্রবর্তী মিশ্র বলেন, একজন আশাকর্মী ও করোনা যোদ্ধাকে যদি এভাবে বিনা চিকিৎসায় থাকতে হয় তার চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু নেই।

সূত্র ও ছবি: আনন্দবাজার

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close