খবরদেশ

পাকিস্তান বন্দী করে রেখেছিল ১৯৯১ সাল থেকে, ২৬ বছর পর ভারতে ফিরলেন কুলদীপ

মহানগর বার্তা ডেস্ক: দীর্ঘ যন্ত্রণা শেষে ঘরে ফিরলেন কুলদীপ যাদব। পাকিস্তানের জেলেই কেটে গিয়েছে তাঁর জীবনের ২৬ টি বছর। পাশাপাশি চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকারও হতে হয়েছে তাঁকে। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষা কাটিয়ে আবারও এক হয়েছেন পরিবারের সাথে। প্রত্যাবর্তনের পরই তিনি বলেন, “আমার নিজের ঘর সহ সবকিছুই চেনার বাইরে। সবকিছু কত বদলে গেছে।”

চরবৃত্তির অভিযোগে ২৬ বছর ধরে পাকিস্তানের জেলে ছিলেন গুজরাতের কুলদীপ যাদব। অবশেষে জেলের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনে ইতি টেনে গত ২৫ আগস্ট ঘরে ফিরলেন ৫৯ বছর বয়সি প্রৌঢ়। ১৯৯১ সালে কুলদীপ যাদবকে পাকিস্তান পাঠানো হয়। তবে কি কারণে তা কিছু বলেননি। ১৯৯৪ সালে কুলদীপ যাদবকে গ্রেফতার করে পাক প্রশাসন। পাকিস্তান জেলে কুলদীপের উপর চলে অকথ্য অত্যাচার। তারপর থেকেই বন্দি জীবনের যন্ত্রণা শুরু হয় তাঁর। ২৪ জুন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট কুলদীপ যাদবকে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। কাগজপত্রের জট কাটিয়ে কুলদীপ ২২ আগস্ট দেশের মাটিতে পা রাখেন।

একটা দীর্ঘ দুর্বিসহ জীবনের পর কুলদীপ নতুন করে তাঁর জীবন শুরু করতে চান। পরিবারের অনুরোধ সত্ত্বেও টানা অত্যাচারের পরও পাকিস্তানে তাঁর যাওয়া নিয়ে মুখ খোলেননি কুলদীপ। দেশের নিরাপত্তার কারণে কুলদীপ কাটিয়েছেন অত্যাচারের একত্রিশ বছর। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের জেরে তিনি কঠোর রোগের শিকারও হন। জরাজীর্ণ শরীরে কাজ করার ক্ষমতা তাঁর নেই। নিজের অস্তিত্ব পুনরায় ফিরে পেতে চান কুলদীপ। তিনি চান সরকার তাঁর জন্য ভাবুক। তাঁর অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করুক।

এছাড়াও কুলদীপ জানিয়েছেন, পাকিস্তান জেলে ভারতীয় বন্দিদের অধিকাংশই শারীরিকভাবে অক্ষম। অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর আবেদন, দেশে ফেরানো হোক বাকি ভারতীয় বন্দিদেরও। তিনি কোনোভাবেই পরিবারের বোঝা হতে চান না। কুলদীপ বলেন, পরিবার আছে-থাকবে, কিন্তু নিজের সঙ্গে নিজের লড়াইয়ে কুলদীপকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে সরকারকেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close