আধ্যাত্মিক

বিভেদ নয়, লক্ষ্মীপুজোয় জঙ্গলমহলের এই ব্রত এখনও বলে যায় নারী-পুরুষ সমানের কথা!

মহানগর বার্তা ডেস্ক: এই ব্রতয় বিভাজন নেই। থাকেন কোনও লিঙ্গের বৈষম্যও। কোজাগরী পূর্ণিমার দিন এমনই এক ব্রত পালিত হয় রাজ্যের জঙ্গলমহলের একাধিক জেলায়। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামের প্রান্তিক অঞ্চল। এবং সুবর্ণরেখার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল জুড়ে পালন করা করা হয় আভড়াপুণেই বা অব্যূঢ়া পূর্ণিমা ব্রত। যেখানে মূলত, পরিবারের অবিবাহিত পুত্র, কন্যার মঙ্গল কামনায় উপোস থাকে মেয়েরা। অর্থাৎ ভালো জীবনসঙ্গী যাতে পান সন্তানেরা, সেই কামনায় প্রার্থনা করেন বাড়ির মহিলারা।

এই ব্রত মূলত পালিত হয় কোজাগরী পূর্ণিমার দিন। চাঁদ ওঠার পরে, সন্তানের কোমরে সুতো অথবা ঘুনশি বাঁধেন মায়েরা। সঙ্গে স্নান করে আসার পর সন্তানের কপালে দেন চন্দনের টিকা। এর সঙ্গেই লুচি, পায়েস, সুজি, ক্ষীর সহযোগে ব্রত পালন করেন তাঁরা। সন্ধ্যার পর তুলসী গাছে জল ঢেলে শেষ হয় উপোস। যেখানে কন্যা, পুত্র নয়, লিঙ্গের ভেদাভেদ ভুলে সন্তানের ভালো জীবনসঙ্গীর আশায় স্বপ্ন বাঁধেন মা। যে ব্রত প্রার্থনা করে, পো মেনেকার নিশু বাঢ়ু অর্থাৎ ছেলের গোঁফ বাড়ুক, ঝি মেনেকার আইস বাঢ়ু অর্থাৎ মেয়ের আয়ু বাড়ুক।

কার্তিকের মতো পুরুষ সঙ্গী পাক মেয়ে, আর লক্ষ্মীর মতো স্ত্রী পাক ছেলে, এই আশায় ব্রত পালিত হয় জঙ্গলমহলের একাধিক ঘরে। যেখানে লক্ষ্মীর আরাধনায় তুলনায়, বিবেচিত হয় সন্তানের মঙ্গলসাধন। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে কন্যা সন্তানের ব্রাত্য থাকা নয়,পুত্র সন্তানের প্রাধান্য নয়, জনজাতির দৈনিক অবস্থানে সন্তানের ভালোর জন্য এগিয়ে যাওয়া বিবেচিত হয় এখানে।

বলা হয়, এই উৎসবের সঙ্গে উড়িষ্যার কুমার পূর্ণিমার মিল রয়েছে। যদিও এই ব্রত একেবারের জঙ্গলমহলের নিজের। নিজস্ব চিন্তা আর রীতির মেল বন্ধনেই পালিত হয় এই আচার। যা বারবার সন্তানের মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে দেয় ঘরে ঘরে।

যদিও দিনের পর দিন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই হারিয়ে যাচ্ছে ব্রতকথা। একের পর এক পুরনো আচার, রীতি, সংস্কৃতি লোপ পাচ্ছে রোজ। ঠিক সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে এই বৈষম্যহীন উৎসব, লক্ষ্মীপুজোর দিন এর পালন, তাৎপর্য বাড়িয়েছে ফের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close