জেলাহুগলি

‘যারা পুজোর রায় মানছে না,তারা কোভিড হাসপাতালে ডিউটি করুক’, বিস্ফোরক লকেট

নিজস্ব প্রতিনিধি,হুগলি:দুর্গাপুজো নিয়ে হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানালেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি এই রায়ের বিরোধিতা প্রসঙ্গে শাসকদলকেও এক হাত নিলেন বিজেপি সাংসদ। স্পষ্ট জানালেন, যাঁরা রায় মানছেন না, তাঁদেরকে কোভিড হাসপাতালে কাজ করতে পাঠানো উচিত।

গতকাল মঙ্গলবার চুঁচুড়ার ৩ নম্বর গেটের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি হাইকোর্টের তরফে দর্শকহীন পুজোর ঐতিহাসিক রায়কে সমর্থন জানিয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “দুর্গাপুজো নিয়ে হাইকোর্ট ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। এই রায়কে সন্মান করি। তৃণমূলের যারা এই রায় মানছে না তাঁদের কোভিড হাসপাতালগুলিতে ডিউটি দেওয়া হোক।”

বিজেপি নেত্রীর মতে হাইকোর্টের এই রায় সাধারণ মানুষের স্বার্থেই। তাঁদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই রায় দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ সেকথা বুঝতে পারলেও বুঝতে চাইছে না তৃণমূল কংগ্রেস। বস্তুত, এদিন পুজো উদ্ধোধন কালেও আশেপাশের লোকজনকে দূরত্ব বিধি নিয়ে একাধিক বার সতর্ক করতে দেখা যায় তাঁকে।

এদিন সাংবাদিকদের সামনে হাইকোর্টের রায়ের পুনর্বিবেচনার আর্জি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়েও লকেট চট্টোপাধ্যায়ের গলায় ছিল সরকারের প্রতি কটাক্ষের সুর। তিনি বলেন, “আনন্দের মিছিলের বদলে যদি মৃত্যু মিছিল হয়, সরকার যদি এভাবে মানুষের বিরুদ্ধে যায়, সেখানে আর কিছু বলার থাকে না। এটাই হচ্ছে তৃণমূলের জনদরদী সরকার, যাঁরা মানুষের কথা ভাবে না।এদের জন্যই রাজ্যে করোনার এত বাড়বাড়ন্ত হয়েছে।” এই সূত্রে তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আর যাঁরা যাঁরা হাইকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করছেন তাঁদের কোভিড হাসপাতালে ডিউটি দেওয়া হোক বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এছাড়া রাজ্যে পুজো কমিটি গুলিকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদানের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী ক্লাবগুলোকে টাকা দিচ্ছেন আর দেখা যাচ্ছে ক্লাবগুলোতে বোমা বিষ্ফোরণ হচ্ছে। আগামী দিনে ভোটে সন্ত্রাস করার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী ক্লাবগুলোকে টাকা দিয়েছেন।” সেই সঙ্গে এখন থেকেই যুব সমাজকে সন্ত্রাসের জন্য ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। প্রতিটি ক্লাবের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত, এমনটাই মত তাঁর।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close