fff
ভাইরাল

বাস্তবের সরস্বতী!পড়াশোনার খরচ জোগাতে রাস্তার ধারে ফুচকা বিক্রি করেন তরুণী, MA Chaiwali র মত ভাইরাল ভিডিও

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: কোন‌ও কাজ‌ই ছোট নয়, এই আপ্তবাক্য মনে রেখে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাতে ঠেলা গাড়ির উপর চা বিক্রি (MA Chaiwali) বা স্টেশনে খাবারের দোকান দিয়ে রোজগার করার পথেও হাঁটছেন উচ্চশিক্ষিতরা। কখনো সামনে এসছে (Mba Chaiwala)- র ভাইরাল ভিডিও। Mba ছেড়ে চায়ের দোকান দিয়ে বর্তমানে কোটিপতি সেই চা বিক্রেতা। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন পাঞ্জাবের মোহালির এক ছাত্রী (Punjabi Girl)। পড়াশোনার খরচ চালাতে ফুটপাতে ফুচকা বিক্রি শুরু করেছেন ওই তরুণী। পাঞ্জাবি এই তনয়ার কথা বিখ্যাত ফুড ভ্লগার হ্যারি উপাল সর্বসমক্ষে নিয়ে এসেছেন। তাঁর ভিডিও থেকে গোটা ভারতবর্ষ এই তরুণীর লড়াই ও জীবন সংগ্রামের কথা জানতে পেরেছে। নেটিজেনরা সকলেই কুর্নিশ জানিয়েছে তাকে। সেই সঙ্গে তাকে আরও এগিয়ে যাওয়ার শুভেচ্ছাও জানিয়েছে লক্ষ লক্ষ ভারতবাসী। ফুড ভ্লগারের ভিডিওয় দেখা গিয়েছে ওই তরুণী মুহূর্তের মধ্যে ফুচকা, আলু কাবলি, পাপরি চাট (Chaat) বানিয়ে লোকের হাতে তুলে দিচ্ছেন (MA Chaiwali)। উত্তর ভারতে এমন দোকানকে বলা হয় চটপটি শপ। ওই তরুণী মোহালির রাস্তার ধারে ফুটপাতের উপর স্রেফ একটা টেবিল পেতে মুখরোচক সব জিনিস বিক্রি করছেন। তাঁর একটাই লক্ষ্য, এইভাবে উপার্জন করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। হ্যারি উপালের ভ্লগ থেকেই জানা গিয়েছে এই তরুণী আগে একটি বেসরকারি সংস্থায় ছোটখাটো চাকরি করতেন। কিন্তু সেখানে এতটাই সময় চলে যেত যে বাড়ি ফিরে আর উচ্চশিক্ষার জন্য পড়াশোনা করার সময় পেতেন না। বাধ্য হয়ে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। এদিকে উপার্জন না করলে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই যাবতীয় সামাজিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে রাস্তাতেই চটপটির দোকান দিয়ে বসেন। তাঁর হাতে বানানো ফুচকা খেয়ে মানুষজন বেশ খুশি বলেও জানা গিয়েছে। তবে মোহালির এই তরুণী প্রথম নয়। এই বাংলাতেই চাকরি না পেয়ে এক ইংরেজিতে এমএ পাস তরুণীকে চা বিক্রি (MA Chaiwali) করতে দেখা গিয়েছিল মাসখানেক আগে। নিজের ডিগ্রির নামেই সেই দোকানের নামকরণ করেছিলেন হাবড়ার টুকটুকি দাস। হাবড়া রেল স্টেশনে টুকটুকি দাসের ‘এমএ ইংলিশ চাওয়ালি’ (MA Chaiwali) দোকানের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছিল। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাসের পরেও তেমন কোন‌ও চাকরি জোগাড় করতে পারেননি হাবড়ার টুকটুকি। অথচ তাঁর স্বপ্ন ছিল ভালো সরকারি চাকরি করার। কিন্তু করোনার পর চাকরির বাজার খারাপ হওয়ায় সরকারি তো দুরস্ত, একটি বেসরকারি সংস্থার চাকরিও ঠিকমতো যোগাড় করে উঠতে পারেননি তিনি। ফলে বাধ্য হয়েই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য চা দোকান খুলে বসেন। তবে টুকটুকি জানিয়ে ছিলেন, তাঁর চা দোকান (MA Chaiwali) খোলার পথটা এতো সহজ ছিল না। চাকরি না পেয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু একদিন সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটতে ঘাঁটতে দেখেন মুম্বাইয়ের এক এমবিএ পাস যুবক ঠেলাগাড়িতে করে চা বিক্রি করছেন। সেই দোকানের নাম ‘এমবিএ চাওয়ালা’ (MBA Chiwala)। ঘটনা হল, নিজের ডিগ্রির নামে এমন চা বা ছোটখাট খাবারের দোকান খোলার ক্ষেত্রে ভারতবর্ষে পথপ্রদর্শক বলে মনে করা হয় মুম্বাইয়ের যুবক প্রফুল্ল বিল্লরকে। তাঁর দেখানো পথেই চা দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন টুকটুকি। কিন্তু ইংরেজিতে এমএ পাস মেয়ের এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে মানতে চাননি টুকটুকির মা-বাবা। পরে মুম্বাইয়ের এমবিএ চাওয়ালার সাফল্যের ভিডিও দেখিয়ে পরিবারের মন নরম করেন বাংলার এই তরুণী। তারপর হাবড়া স্টেশনে একটা ছোট্ট গুমটি ভাড়া নিয়ে শুরু হয় তার চা বিক্রির (MA Chaiwali) জীবন। গড়পড়তা দুধ ও লিকার চা-ই শুধু নয়, টুকটুকির দোকানে বিভিন্ন ফ্লেভারের চা পাওয়া যেত। ৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকা দামের চা (MA Chaiwali) ছিল সেখানে। সন্ধ্যেবেলায় সিঙারাও বিক্রি করতেন ওই তরুণী। একেবারে আধুনিক ব্যবসার স্ট্যাটিজি মেনে প্রথম দিন চা বিক্রি শুরু করেই প্রথম দু’ঘণ্টা বিনামূল্যে চা খাওয়ান সকলকে। যাতে তাঁর নতুন দোকানের চায়ের স্বাদে মজে যায় মানুষজন। টুকটুকি ভালো সাফল্য‌ও পেয়েছিলেন। একে এমএ ইংলিশ চাওয়ালি দোকানের নাম, তার উপর বিভিন্ন স্বাদের চা, হাবড়া স্টেশনে আসা নিত্যযাত্রীরা বেশ খুশি মনেই তাঁর থেকে চা খাচ্ছিলেন। এই তরুণীর স্বপ্ন ছিল পরে মোমো বিক্রির। কিন্তু তারই মাঝে আরপিএফ তাঁর সেই দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। তবে তখনই টুকটুকি জানিয়েছিলেন, তিনি এতো সহজে হাল ছাড়বেন না। যদিও মোহালির এই তরুণীকে প্রশাসনের তেমন কোন‌ও বাধার মুখে এখনও পর্যন্ত পড়তে হয়নি বলে‌ই জানা গিয়েছে। ঘটনা হল, মুম্বাইয়ের প্রফুল্ল বিল্লর এমবিএ পাস করে চায়ের দোকান খুলে শুধু যে কোনরকমে নিজের জীবন কাটাচ্ছেন তা কিন্তু নয়। বরং কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সফল এক ফুড চেনের মালিক হয়ে উঠেছেন। কী স্বপ্ন মনে হচ্ছে? কিন্তু এটাই বাস্তব। এমবিএ চাওয়ালা ব্র্যান্ডকে সারাদেশে সফলভাবে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন এই মারাঠি তরুন। বর্তমানে ভারতজুড়ে ১০০-রও বেশি এমবিএ চাওয়ালার আউটলেট আছে! ফলে দেখাই যাচ্ছে বড় বড় সংস্থার চাকরির প্রস্তাব ছেড়ে মারাঠি এই তরুণের চা বিক্রির সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক ছিল। কারণ বিজনেস ম্যানেজমেন্টে তো এইভাবেই নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার শিক্ষাই দেওয়া হয়। প্রফুল্ল বিল্লর সেটাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। ফলে চাকরি না পেয়ে হতাশ হবেন না। মুম্বাইয়ের প্রফুল্ল বা হাবরার টুকটুকি (MA Chaiwali) অথবা মোহালির নাম না জানা ওই তরুণী কিন্তু ইতিমধ্যেই আপনার সামনে উদাহরণ সেট করে দিয়েছে। শুধু মনে বিশ্বাস আর জোর এনে তাঁদের দেখানো পথে দিব্যি এগিয়ে যেতে পারেন। তাতে ভালো বই মন্দ হবে না। শুধু গোড়ায় বলা আপ্তবাক্যটা মনে রাখতে হবে, কোন কাজই ছোট নয়। নিজের প্রতি বিশ্বাস, আর যে কাজ করছেন তার প্রতি ভালোবাসা থাকলে‌ই দেখবেন ঠিক সফল হয়েছেন জীবনে। তখন আপনি চা বিক্রি করছেন না ফুচকা অথবা সিঙারা কেউ মনে রাখবে না। অতএব হাল ছেড়ো না বন্ধু!

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!