ঢ্যাং-কুরাকুর

কোথাও ডাক্তার, কোথাও পরিযায়ী শ্রমিক! এবারের দুর্গা যেন সাক্ষাৎ মানুষ

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ তিনি ‘দুর্গতি নাশিনী’। তিনি ‘মাতৃরূপেণ সংস্থিতা’। জরা ব্যাধি মৃত্যু প্রভৃতি সমস্ত অশুভ শক্তির হাত থেকে জগতকে রক্ষার ভার তাঁর। তাই ‘পৃথিবীর গভীর গভীরতম অসুখ’-এর দিনে ভক্তের একমাত্র সহায়ও তিনি। মা দুর্গা। আপামর মানুষের শেষ আশ্রয়। এবছরের রোগ জর্জরিত রাজ্যের পুজোর থিমেও তাই বাঙালি খুঁজেছে সেই আশ্রয়কেই।

মাটির প্রতিমাকে বাস্তবে কাছে পাওয়ার উপায় নেই। তিনি আছেন ভক্ত হৃদয়ের গভীরে। কিন্তু যাঁরা দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন দেশকে রোগমুক্ত করার জন্য, তাঁরা তো রক্ত মাংসেরই মানুষ। আমাদেরই চোখের সামনে তাঁদের অবাধ যাতায়াত। প্রায় অসাধ্য সাধনের এই মহা কর্মযজ্ঞে যাঁরা নেমেছেন নিজের প্রাণকে তুচ্ছ করে, তাঁদের মধ্যে দিয়েই কি বাস্তবে ধরা দেন না দেবী দুর্গা? এবছর হালিশহরের জনৈক পুজো উদ্যোগী ক্লাবের থিমও তাই করোনা যোদ্ধারূপী মা দুর্গা।

প্রতিবছর যে উন্মাদনার সঙ্গে এপার বাংলার বাঙালি মাকে বরণ করে নেন, শারদীয়ার প্রভাতে এবার তাতে খানিক ভাঁটা পড়েছে। করোনা ভাইরাসের মারণ থাবায় প্রতিবারের মতো পুজো উপভোগের উপায় নেই। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় জানান দিয়েছে, রাজ্যের ছোট বড় সমস্ত পুজো মন্ডপ এবার থাকবে দর্শক শূন্য। মন্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এমতাবস্থায় আপামর রাজ্য বাসীর কামনা একটাই, এ বছরের আক্ষেপটুকু পরের বছর যেন উসুল করে নেওয়া যায় দ্বিগুণ উৎসাহে। কিন্তু তা তখনই সম্ভব হবে, যদি পৃথিবী থেকে করোনা বিদায় নেয় চিরতরে।

করোনা মোকাবিলায় যে সমস্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী, পুলিশ ও সাফাই কর্মীরা নিজের জীবন তুচ্ছ করে কাজ করে চলেছেন দিনরাত, তাঁদেরকেই মা দুর্গা এবং তাঁর সন্তানদের মধ্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হালিশহরের ক্লাবে। মা দুর্গা সেখানে চিকিৎসক রূপে বধ করছেন করোনারূপী অসুরকে। তাঁর সঙ্গে আছেন পুলিশ রূপে গণেশ, সাফাই কর্মী রূপে কার্তিক, নার্স রূপে লক্ষ্মী এবং সাংবাদিক রূপে সরস্বতী। অভিনব এই ভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অনেকেই।

অন্তরের গভীরে যেমন রোগমুক্তির শেষ আশ্রয় মা দুর্গা, বাস্তবের মাটিতে তেমনই করোনা বধের জন্য মানুষ একান্ত ভাবে নির্ভরশীল করোনা যোদ্ধাদের উপরেই। তাই পুজোর থিমে তাঁদেরকে মা দুর্গার সঙ্গে একাকার করে দিয়ে অতিমারী থেকে মুক্তি খুঁজতে চেয়েছে হালিশহরের ক্লাব। আর তাঁদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে আরো একবার করোনা যোদ্ধাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন আপামর রাজ্যবাসী।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close