খবররাজ্য

‘জিভ খুলে ফেলা’ থেকে ‘মশা মারি না’, দুদিনের মধ্যে ফারাকটা সেই জিভেই

নিজস্ব প্রতিবেদন: জিভ বড় বিষম বস্তু। সারাদিন আমরা এতো কিছু খাই, তার কোনটার কেমন স্বাদ সেটা এই জিভ‌ই আমাদের বুঝতে সাহায্য করে। এখানে গণ্ডগোল মানে সব নষ্ট। আবার যা কিছু বলতে চাই না কেন, তা জিভ‌ই ভাষায় রূপ দেয়। এক্ষেত্রে জিভে গণ্ডগোল মানে সর্বনাশ। তবে ২৯ তারিখ ‘জিভ খুলে ফেলতে বলতাম’ বলা, আর তার দু’দিন পর, মানে ৩১ তারিখ ‘আমি একটা মশা মারতেও ভয় পাই’ বলা, দু’টো দু’মেরুর কথা এক‌ই মুখ দিয়ে উচ্চারিত হলে তাকে আমরা কী ‘জিভ বিভ্রাট’ বলতে পারি?

ব্যাপারটা কেমন ‘জিভ’ময় হয়ে যাচ্ছে! আচ্ছা, একটু খোলসা করা যাক। গত ২৯ আগস্ট ধর্মতলায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভায় (যদিও টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসের সঠিক তারিখ ২৮ আগস্ট) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমি যদি আজ রাজনীতি না করতাম আর এই চেয়ারে না থাকতাম, আমি আমার বোনেদের বলতাম যারা এই মিথ্যে কথা রটনা করে তাদের জিভগুলো টেনে খুলে ফেলে দিতে!”

সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে ‘তৃণমূল মানেই চোর’, বিরোধীদের এই স্লোগান ও সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করা প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী সেদিন এই মন্তব্য করেছিলেন। মমতার এই বক্তব্য যেমন অনেকটা রূপক ধর্মী, তেমনই এর মধ্যে বার্তা আছে, তিনি দায়িত্বশীল পদে আছেন বলেই অনেক বেশি সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। কিন্তু তা না হলে তাঁর বিরুদ্ধে তোলা এই অভিযোগের উপযুক্ত জবাব দিয়ে দিতেন। তবে সত্যিই কারোর ‘জিভ টেনে খুলে নিতেন’, নাকি তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলনেত্রী আইনের দ্বারস্থ হতেন সে আমরা বলতে পারব না। ওটা যিনি বলেছেন তিনিই জানেন।

কিন্তু এর মাত্র দু’দিন, পর মানে ৩১ আগস্ট নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিভ’ থেকেই এর পুরো উল্টো কথা বের হল। তিনি বললেন, “আমি সারাজীবন জেনে শুনে কোন‌ও অন্যায় করিনি। এমনকি আমি একটা মশা মারতেও ভয় পাই। ডেডবডির ছবি দেখি না। রক্ত, হানাহানি আমি দেখতে চাই না।” বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর বলা কথায় পরিষ্কার শান্তি ও সহিষ্ণুতার সুর। যা সোমবারের বলা কথার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

এই দুই কথায় শুধুই কী জিভের ফারাক? সে বিচার পাঠকদের উপরেই ছাড়লাম আমরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close