মহানগর

অন্যায় হলে পথে নামবেন, করোনার ভয়ে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবেন না’, হুঁশিয়ারি মমতার

মৃত্যুঞ্জয় দাস: আজ কলকাতার রাজপথ দেখল এক অভূতপূর্ব ও স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম। যেখানে করোনা বিধি মেনে সবাই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মিছিলে পা মেলালেন, অথচ মানুষের কালো মাথার অভাব হলোনা। আজ ঠিক বিকেল চারটের সময় বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে শুরু হলো হাথরাস কান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল। এই মিছিল দলের গণ্ডি ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছিল সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিবাদ জানানোর ক্ষেত্র।

কলকাতাসহ সারা পশ্চিমবঙ্গ মমতা ব্যানার্জির অসংখ্য পদযাত্রার সাক্ষী। তবে আজকের পদযাত্রা সেই স্মৃতি মনে করালেও রূপে ছিল অনেকটা আলাদা। সতস্ফুর্ত জনসমাগম যেমন ঘটেছিল, তেমনি প্রত্যেকে প্রত্যেকের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে গোটা পথ হেঁটেছে। কোনো হামলে পড়া বা বিশৃঙ্খলার চিহ্নমাত্র ছিলনা। বিকেল চারটের সময় বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। মেয়ো রোড হয়ে যখন ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মিছিল পৌঁছালো তখন বড়জোর পঁচিশ মিনিট সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। মিছিলের শেষে মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জির কথায় প্রকাশ পেয়েছে নির্যাতিতা তরুণীর প্রতি শোক ও সমবেদনা। সেইসঙ্গে কলকাতা থেকেই হাথরাসের ওই অসহায় পরিবারের প্রতি তিনি তার সহমর্মিতা পৌঁছে দিয়েছেন। রাজ্যের একের পর এক প্রথমসারির কোভিড যোদ্ধাদের মৃত্যু মুখ্যমন্ত্রীকে যে কতটা নাড়া দিয়ে গেছে, তা তার বক্তব্যে পরিষ্কার। করোনায় আক্রান্ত সবার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এই মহামারী গোটা দেশজুড়ে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ভয়ে রাস্তায় নামছেন না। কেন্দ্রের একের পর এক জনবিরোধী নীতি সত্বেও নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন অনেকেই। সেই প্রসঙ্গে মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছেন যে তিনি চিন্তিত হলেও ভয় পেয়ে ঘরেতে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকার মানুষ নন। অন্যায় হলে তিনি রাস্তায় অবশ্যই নামবেন।

গতকাল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল যখন হাথরাস পৌঁছয়, তখন তাদের উত্তরপ্রদেশ পুলিশ আটকে দেয়। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি করে, এমনকি দলের মহিলা সাংসদ প্রতিমা মন্ডলকে ধাক্কা দিতে কসুর করেনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। প্রতিনিধি দলের ওপর এহেন আচরণ এবং রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে নির্যাতিতা তরুণীর দেহ দাহ করে দেওয়ার প্রতিবাদে আজকের সমাবেশে গর্জে উঠেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সমাবেশে দাঁড়িয়েই তিনি স্লোগান তুলেছেন “বিজেপি সরকার / আর নেই দরকার”। তার এই শ্লোগানের পরেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত জনতা বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে গান্ধী মূর্তি পাদদেশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আজকের সমাবেশ থেকে মমতা ব্যানার্জি আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি বিরোধিতার সুর বেঁধে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close