মহানগর

“পাগড়ি মামলায় পুলিশের উচিত ভুল শুধরে নেওয়া”, মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রাজ্যপাল

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ বিজেপির নবান্ন অভিযানের পাগড়ি বিতর্কে এবার মুখ খুললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি ধৃত বলবিন্দর সিংহের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ার আর্জি জানালেন। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশকেও এক হাত নিয়েছেন তিনি। বলেছেন পুলিশ এই ক্ষেত্রে যে ভুল করেছে তা শুধরে নেওয়া উচিত অবিলম্বে।

বস্তুত রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বরাবরই সোশ্যাল মিডিয়ায় অতি সক্রিয়। যে কোনো বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করার জন্য তিনি বেছে নেন সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষত ট্যুইটারকে। তাই সাম্প্রতিক এই বিতর্কেও তিনি মুখ খুলেছেন ট্যুইটারে। মঙ্গলবার রাজ্যপাল নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী, বলবিন্দর সিংহ মামলায় রাজ্য পুলিশের উচিত, ঘটনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা না করে ভুল শুধরে নেওয়ায় জোর দেওয়া। রাজ্যে বীভৎস মানবাধিকার লঙ্ঘনের পোস্টার বয় হয়ে উঠেছেন বলবিন্দর। তাঁর ওপর দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে যে সর্বব্যাপী প্রতিবাদ হচ্ছে, তা প্রশংসনীয়।”

এখানেই না থেমে তিনি আরো লেখেন, তিনি আরও লেখেন, “রাজ্য পুলিশ বলবিন্দরের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এনেছে, তাতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে, এটা বিস্ময়কর ও পক্ষপাতদুষ্ট।” এরপর মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “এটাই সুস্থ পদক্ষেপ করার সময়, এই সব ধারা প্রত্যাহার করে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পক্ষে বার্তা পাঠান।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নানা ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার নেতৃত্বে নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। বিজেপির ওই মিছিলে পুলিশের সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। জায়গায় জায়গায় বিজেপি নেতা কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজপথ। হাওড়া ময়দানের কাছে একটি সংঘর্ষে বিজেপির এক কর্মীর কাছ থেকে পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে বলবিন্দর সিংহ নামের ওই শিখ যুবকের পাগড়ি খুলে যায়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই পুলিশের আচরণের সমালোচনা শুরু হয় নানা মহলে। শিখ ধর্মকে এই আচরণের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে বলেই মনে করেন অনেকে। সেই বিতর্কের মাঝেই এবার মুখ খুলেছেন রাজ্যপাল। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close