দেশ

কুর্নিশ! মাত্র ১ টাকায় রোজ দুপুরে গরিবদের ভরপেট খাওয়ান এই ব্যক্তি

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: করোনা কালে দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতিতে যে মানুষ গুলোর দু বেলা পেটের ভাত জোগাতে নাভিশ্বাস উঠছে, তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। গরিব মানুষকে সস্তায় খাবার দেওয়ার ঘটনাও বিরল নয়। কিন্তু তাই বলে ১ টাকায় দুপুরের ভরপেট খাবার?

বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এমনই এক উদ্যোগ নিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দিল্লির একটি রেস্টুরেন্ট। দিল্লির এই রেস্টুরেন্টের নাম ‘নাঙ্গলোইস শ্যাম রাসোই’। প্রবীণ কুমার গয়াল এই রেস্টুরেন্ট চালান। মাত্র ১টাকায় দিনে অন্তত ২০০০ জন মানুষকে ভরপেট খাবার খাওয়ান প্রবীণ কুমার গয়াল। গরিব মানুষদের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য। আর তাই ১টাকায় দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত রীতিমতো লাইন পড়ে যায় দিল্লির ভুটো গলিত শ্যাম রাসোইয়ের সামনে।

প্রবীণ কুমার গয়াল সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে জানিয়েছেন, ” এখানে আমরা রোজ মোটামুটি ১০০০ থেকে ১১০০ জন লোককে খাওয়াই। এছাড়াও ৩টে ই-রিক্সায় আমরা কাছাকাছি এলাকায় খাবারের পার্সেলও পৌঁছে দিই। সব মিলিয়ে দিল্লির প্রায় ২০০০ জন মানুষ আমাদের শ্যাম রাসোইতে রোজ খান।”

জানা গেছে, গত দুমাস ধরে এই রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছেন প্রবীণ কুমার গয়াল। তিনি জানিয়েছেন, “আমরা মানুষের কাছ থেকে ডোনেশন পাই। গতকালই একজন বয়স্ক মহিলা এসে আমাদের রেশন দিয়ে গেছেন। আরেক দিন একজন এসে গম দিয়ে গেছেন। এভাবেই আমরা গত দুমাস ধরে রেস্টুরেন্টটা চালাচ্ছি।” তবে শুধু মাত্র নিজের ক্ষমতায় আর বেশিদিন হয়তো এই উদ্যোগ চালিয়ে যেতে পারবেন না প্রবীণ বাবু। তাই সাহায্যের আবেদন করেছেন তিনি দেশবাসীর কাছে।

“আমাদের যা ক্ষমতা আছে তাতে হয় তো আর দিন সাতেক চালাতে পারব। আমরা ডিজিটাল মাধ্যমেও ডোনেশন নিয়ে থাকি। আমি সবাইর কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করছি।”

প্রবীণ কুমারের এই কাজে তাঁকে সাহায্য করার জন্য আছেন ৬ জন কর্মচারী। তিনি তাদের ৩০০-৪০০ টাকা করে মাইনে দেন। এছাড়া আশেপাশের কলেজের ছাত্ররাও সাহায্য করে। কিছুদিন আগে অবধি ১০ টাকায় খাবার বিক্রি করতেন প্রবীণ কুমার। কিন্তু এখন এই দুর্মূল্যের বাজারে তা কমিয়ে ১ টাকা করেছেন। রঞ্জিত সিং নামে এক জনৈক ব্যবসায়ী তাঁকে এই কাজ চালানোর জন্য জায়গা দিয়েছেন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close