দেশ

নৃশংস! পোষা কুকুরকে গাড়ির সঙ্গে বেঁধে টেনে হিচড়ে নিয়ে গেল ব্যক্তি, মুহূর্তে ভাইরাল ভিডিও

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: ২০২০ সালে দাঁড়িয়ে দেশ বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে যখন শিরোনামে উঠে নানা মানবিকতার বিভিন্ন নিদর্শন, তখনই কিছু কিছু ঘটনা নৃশংসতার এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করে যে মানবতার উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যেতে সময় লাগে না এক মুহূর্ত। এদিনের কেরালার ঘটনা নৃশংসতার সেই চরম দৃষ্টান্তকেই আরো একবার তুলে আনল চোখের সামনে।

নিজের পোষা কুকুরকে আর সহ্য করতে পারেন না, তাই তাকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার জন্য চলন্ত গাড়ির সঙ্গে বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে গেলেন এক ব্যক্তি। শুক্রবার নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে কেরালার এরনাকুলম জেলার পারাভুর নেডিম্বাসারি রোডে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনদের একাংশ।

জানা গেছে ভিডিওটি করেছেন ওই সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া এক সাইকেল আরোহী। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটা কুকুরকে গাড়ির সঙ্গে বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কুকুরটি গাড়ির গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দৌড়ানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না। কিছুক্ষণ চেষ্টার পরেই সে পড়ে যায়, আর তারপর রাস্তার সঙ্গে ঘষতে ঘষতে চলে সে। করুণ এই দৃশ্যের তুমুল সমালোচনায় সামিল হয়েছেন নেটিজেনরা।

সূত্রের খবরে জানা গেছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ইউসুফ। কুকুরটি তারই পোষা। কিন্তু তাকে নিয়ে হয়রান হয়ে অবশেষে শাস্তি দেওয়ার এই কঠিন পন্থা বেছে নিয়েছে সে। শুধু তাই নয়, ভিডিও করেছেন যে ব্যক্তি তিনি ইউসুফের এই নৃশংসতার কারণ জানতে চাইলে ইউসুফ তাঁকে নিজের চরকায় তেল দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে বলে জানা গেছে। চেঁচিয়ে সে বলেছে, “কুকুরটা মরলে তোমার কি?”

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই-এর কাছে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, “দৃশ্যটা সাংঘাতিক ছিল। কুকুরটার গলায় একটা দড়ি বাঁধা ছিল। আর ওকে মর্মান্তিক ভাবে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।”

ভিডিওতে আরো দেখা যায় ওই কুকুরের এহেন অবস্থা দেখে একটা রাস্তার কুকুরও কিছুক্ষণ গাড়ির পিছনে দৌড়চ্ছিল, বুঝতে অসুবিধা হয় না তাকে বাঁচানোর জন্যই সেও ছুটতে শুরু করেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হতেই ইউসুফ নামে কুকুরের ওই মালিক রাস্তাতেই কুকুরটাকে ফেলে চলে যায়। কিন্তু পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে সূত্রের খবর মারফত। পশু চিকিৎসালয়ের এক কর্মী ওই অসুস্থ কুকুরটাকে উদ্ধার করেছেন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close