দেশরাজনীতিরাজ্য

মুকেশ আম্বানির হাত ধরে আছেন মোদী আর মমতা, এবার বিস্ফোরক মহম্মদ সেলিম

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: একুশের বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক বাদানুবাদে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার পরিস্থিতি। একদিকে যেমন লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যকে হাতিয়ার করে মসনদ দখলের লড়াইয়ে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি, অন্যদিকে তেমনই ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূলও। পিছিয়ে নেই বাম-কংগ্রেস জোটও। এমতাবস্থায় এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বিজেপি এবং তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম।

শুক্রবার মহম্মদ সেলিম সাংবাদিকের সামনে কার্যত তুলোধুনো করেছেন কেন্দ্রের মোদি সরকার এবং রাজ্যের মমতা সরকারকে। এই দুই সরকারই আদতে দেশের ধনী শিল্পপতিদের সুবিধার্থে কাজ করছেন, এমনটাই অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, “মুকেশ অাম্বানির এক হাত ধরেছেন মমতা, অন্য হাত ধরেছেন মোদী।” মুকেশ আম্বানির স্বার্থ সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিতর্কিত কৃষি আইন এনেছে বলেও অভিযোগ করেছেন রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিম।

বস্তুত, এদিন ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে বামপন্থাকে সরাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক জোট হয়ে কাজ করেছিলেন। “২০১৪-র পর তিনি (প্রধানমন্ত্রী) রাজ্যে সভা করে বলেছিলেন ৩৪ বছর ধরে সিপিআইএম এত গর্ত খুঁড়েছে, সেগুলো ভরার জন্য দিদির একটু সময় লাগবে। তখন কার দালালি করছিলেন তিনি?” প্রশ্ন করেন তিনি।

পরে সে প্রশ্নের উত্তর দেন নিজেই। মহম্মদ সেলিম বলেন, “এখন আম্বানির দালালি করছেন, তখন মমতার দালালি করছিলেন। কারণ বামপন্থাকে শেষ করার জন্য কন্ট্যাক্ট পেয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি।”

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম প্রধানমন্ত্রীর কার্যকলাপের সমালোচনা করে আরো বলেন, “কোন রাজ্যের কৃষক ১২ হাজার টাকা পেয়েছে? এরকম মিথ্যেবাদী প্রধানমন্ত্রী আগে কোথাও হয় নি।” প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপি নিজের স্বার্থের জন্য কৃষকদের নিয়ে রাজনীতি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের পরিস্থিতি। কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার পরেও মেলে নি সমাধানসূত্র।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close