fff
রাজনীতি

Mohua Moitra: ‘কালী’ থেকে মোদি, বিতর্কিত মন্তব্যে লাগামহীন তৃণমূল সাংসদ

তিনি মুখ খুললেই সংবাদমাধ্যমের বেশ কয়েকদিনের খবরের রসদ জোগাড় হয়ে যায়। অনেকেই বলেন ‘মহুয়া যেমন খান, তেমন পাল্টা ফিরিয়েও দেন’। বিরোধীরাও জানেন মহুয়াকে(Mohua Moitra) ঢিল মারলে পাটকেল ঠিক খেতেই হয়। কিছুদিন আগেই মা কালীকে নিয়ে করা তাঁর মন্তব্যে উত্তাল হয়েছিল বাংলার রাজনীতি। বাংলায় বিজেপির ধর্ণা-মিছিল ছাড়াও, কালী বিতর্কে মহুয়ার নাম না করে মুখ খুলতে দেখা যায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। তারপরেও বিরাম নেই তৃণমূল সাংসদের(Mohua Moitra) । এসএসসি দুর্নীতি। ইডি- সিবিআই। পার্থ-অর্পিতার এই ঘটনাবহুল সময়েও শিরোনাম দখলের লড়াইতে পিছিয়ে নেই মহুয়া মৈত্র.(Mohua Moitra)। গতকাল থেকেই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। তবে বিষয়টা এবার একটু আলাদা। সংসদে করা তাঁর ঝাঁঝালো মন্তব্য কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে করা টুইটের জন্য নয়। তাঁর লুই ভিটন ব্যাগের(louis vuitton bag price) জন্য এবার বিরোধীদের কু-নজরে তিনি।

গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা যায়। সেখানে সংসদে দেড় লাখি (louis vuitton bag price) এই ব্যাগ হাতে দেখা যায় মহুয়াকে। ঠিক যে সময় তৃণমূলের(TMC) অপর সাংসদ বেগুন খেয়ে সংসদে (parliament) মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন, তখনই সংসদ কক্ষে আলোচনা চলাকালীন একটি বহুমূল্য লুই ভিটন ব্যাগ (Louis Vuitton Bag) শাড়ির আঁচলের তলায় লুকোচ্ছেন মহুয়া। এমনটাই দাবি ওঠে নেটপাড়ায়। এক সাংসদের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, আবার অন্য সাংসদের হাতে এই বহুমূল্য ব্যাগ! গোটা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মহুয়ার বিরুদ্ধে নীতিহীন রাজনীতির অভিযোগ এনে, ময়দানে নামে বিজেপি। বিজেপির করা একের পর এক বাক্যবাণ ধেয়ে আসেন মহুয়ার দিকে।

কিন্তু ওই যে, মহুয়াকে ঢিল মারলে পাটকেল খেতেই হয় বিরোধীদের। সমালোচনার জবাবও বরাবরই বোল্ড ওয়েতে হ্যান্ডেল করেন মহুয়া মৈত্র। তৃণমূল সাংসদ তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আজ বলেন, “ঝোলেওয়ালা ফকির ২০১৯ সাল থেকে সংসদে এই একই ব্যাগ ব্যবহার করছে। ঝোলা লেকে আয়ে থে… ঝোলা লেকে চল পরেঙ্গে…।” এখানেই শেষ নয়, প্রমাণ হিসেবে তিনি সংসদে নিজের বেশ কয়েকবছরের ছবি কোলাজ আকারে পোস্ট করেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ওই একটি ব্যাগ হাতে নিয়েই তিনি সর্বদা সংসদ কক্ষে হাজি হয়েছেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে এই মন্তব্যের মাধ্যমে মহুয়া মৈত্র আদতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই কটাক্ষ করেছেন। কারণ কোনও এক সময় প্রধানমন্ত্রীকে নিজের এক ভাষণে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘ফকির আদমি হ্যায়, ঝোলা লেকে চল পরেঙ্গে।” সেই বক্তব্যের রেশ টেনেই মহুয়ার এই টুইট খোঁচা।

এটাই প্ৰথম নয় এর আগেও একাধিক বিতর্কে তিনি তাঁর মন্তব্যের ঝাঁজ রেখে গেছেন।

প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে আক্রমণ

রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে রাজভবনকে পরিবারতন্ত্রের আঁতুড়ঘর বানানোর অভিযোগ করেছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তারপর ধনকড়কে আঙ্কলজি সম্বোধন করে দিল্লি চলে গিয়ে অন্য কাজ খুঁজে নেওয়ার টিপ্পনি সূচক পরামর্শও দিয়েছিলেন মহুয়া।

মোদিকে কটাক্ষ

বাংলায় গেরুয়া ঝড় তুলতে প্রচারে আদাজল খেয়ে লেগেছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। খোদ প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গত বিধানসভা ভোটের সময় বারংবার রাজ্য সফরে এসেছেন অমিত শাহ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, জেপি নাড্ডার মতো নেতা। কিন্তু ভোটের ফলাফল বলছে পশ্চিমবঙ্গের মসনদ দখল করতে আরও অন্তত ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে। সে নিয়েও মোদিকে তোপ দেগেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
ভোট গণনার পরদিন টুইট করে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগরের সাংসদ বলেছেলিন, “ভাল কাজ করেছেন মোদীজি। আপনি একটা রাজ্যে জয় চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে আপনি আমাদের দেশকে বিশ্বের দরবারে নত করেছেন।”

কালী বিতর্ক(kali)

কালী(kali) নামে একটি তথ্যচিত্রের পোস্টার নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে তা নিয়ে মন্তব্য করে, সেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে মা কালী সম্পর্কে মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য নিয়ে বিদ্বজ্জনদের মধ্যেও ভিন্নমত রয়েছে। 

শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেছিলেন, “আমাদের লোককথায় দেবীকে নিয়ে ঠাট্টা আছেই। পার্টি কেন মতামত নিল না, সেটা তাদের ব্যাপার। এই ইতিহাস আছে। দেবীর প্রসাদে সুরা, মাংস দেওয়ার রীতি আছে।” অন্যদিকে, শিক্ষাবিদ অভীক মজুমদার বলেন, “রামপ্রসাদ লিখেছিলেন এবার কালী তোকে খাব। কেউ কালীকে তুইতোকারি করে। তার মধ্যে কালীর দশমহাবিদ্যা, গোষ্ঠীর ভাগ আছে। কোনও গোষ্ঠীর আঘাত লাগতে পারে।”

বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি রথীন্দ্র বসু এই বিষয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোজাসুজি প্রশ্ন। আপনি যিনি নিজেই বাড়িতে কালীপুজো করেন, আপনি তৃণমূল সংসদ মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য সমর্থন করবেন?” এই প্রসঙ্গে মহুয়া মৈত্রর অতীতের বেশ কিছু মন্তব্যের কথাও নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন বিজেপি নেতা। সঙ্গে সায়নী ঘোষ, নির্মল মাঝি, বিশ্বজিৎ দাস, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মদন মিত্রের মন্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়েছিলেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!