মহানগর

মোহনবাগানের বিজয় উৎসবের মিছিল ট্রেলার, পুজোতে কি জনস্রোতের সিনেমা দেখবে শহর?

কলকাতা: তিলোত্তমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফুটবলের উন্মাদনা কতটা প্রবল, আরো একবার তার সাক্ষী থাকল রবিবারের শহর। আই লিগে দ্বিতীয় বারের জন্য ভারত সেরা হয়ে মোহনবাগান সমর্থকরা দেখালেন কলকাতার ফুটবল প্রেম। কিন্তু সেই সঙ্গে রোগক্লিষ্ট শহরের মনে গেঁথে দিয়ে গেলেন আগামী নিয়ে একরাশ উদ্বেগ আর আশঙ্কাও।

সমগ্র বিশ্বের মতোই বর্তমানে এই শহরের বাতাসও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বিষাক্ত। রাজ্যে অ্যাকটিভ কোভিড রোগীর সংখ্যাটা ৩ লক্ষেরও বেশি। ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার ছুঁই ছুঁই। কিন্তু রবিবারের কলকাতাকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। আইলিগ জয়ী দল ট্রফি হাতে পেয়ে শহর জুড়ে মিছিলে শামিল হলেন। আরো একবার প্রমাণ করলেন তাঁদের ফুটবল প্রেম, ক্লাব প্রীতি এবং অবশ্যই নাগরিক হিসেবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার ফলে মার্চ মাসেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আইলিগ। কিছু ম্যাচ তখনও বাকি থাকলেও মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে ট্রফি হাতে আসেনি। এদিন বাইপাসের ধারের হায়াত রিজেন্সি হোটেলে এআইএফএফ-এর তরফে ট্রফি তুলে দেওয়া হয় বাগানের হাতে। আর তারপরেই হায়াত থেকে বাইপাস, উল্টোডাঙা, খান্না হয়ে কয়েক হাজার মোহনবাগান সমর্থক ট্রফি নিয়ে মিছিলে শামিল হন।বলা বাহুল্য, ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও মানার চেষ্টা করা হয়নি এই উৎসবে।

আর মাত্র তিন দিনের মাথায় শুরু হতে চলেছে দুর্গাপুজো। কলকাতার মানুষের কাছে এই পুজোর পাঁচ দিন সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকা এক টুকরো মুক্তি। তাই হিসেবের চেনা ছকের বাইরেই কাটে পুজোর এই পাঁচ দিন। কিন্তু করোনা আক্রান্ত বর্তমানে রোগদীর্ণ শহর কি প্রতি বছরের সেই লাগাম ছাড়া উদ্দামতাকে সহ্য করতে পারবে? পুজোর পর করোনা আরো জাঁকিয়ে বসবে না তো শহরের বুকে?

রাজ্য সরকারের তরফে করোনা পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজো বাতিল না করা হলেও, বেঁধে দেওয়া হয়েছে গাইডলাইন। নির্দিষ্ট দূরত্ব বিধি, মাস্ক, স্যানিটাইজারের নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক ব্যবহার এবারের পুজোর নিউ নর্মাল হতে চলেছে। কিন্তু আদেও কি শহরবাসী সে বিষয়ে সচেতন? রবিবারের মোহনবাগান উৎসব দেখে কিন্তু তা নিয়ে আশঙ্কা, উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এটাই যদি উৎসবের ট্রেলার হয়, তবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবে কলকাতার ছবিটা ঠিক কেমন হবে? কেমন থাকবে পুজো পরবর্তী কলকাতা?

বস্তুত, এর আগেও বহুবার ফুটবল উন্মাদনায় ভেসেছে তিলোত্তমা। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, শহরের এই দুই ফুটবলের প্রাণ ভোমরা আগেও নানা সাফল্যে রাজপথে পা মিলিয়েছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।শুধু শহর নয়, এবার গোটা পৃথিবীটাই অসুস্থ। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা- এই সমস্ত বিধিই কার্যত শিকেয় উঠেছিল এদিন মোহনবাগান ক্লাবের ফুটবল উৎসবে। এমনকি করোনা বিধি কার্যকর করতে তেমন প্রশাসনিক তৎপরতাও চোখে পড়েনি। কিন্তু এ দায় কি শুধু প্রশাসনেরই?নাগরিক সচেতনতা আর কবে তৈরি হবে? আর কত প্রাণ গেলে মানুষ বুঝবে প্রাণের মূল্য? রবিবাসরীয় কলকাতা তুলে দিল একাধিক প্রশ্ন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close