রাজ্য

ঘরে ফিরল দেহ, গান স্যালুটে শেষ বিদায় নদীয়ার শহীদ সুবোধ ঘোষকে

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ কাশ্মীর সীমান্ত অঞ্চলে পাক সেনাদের অতর্কিত হামলায় বলি হয়েছিলেন ভারত মায়ের বাঙালি সন্তান সুবোধ ঘোষ। দেশ জুড়ে দীপাবলির আলোর উৎসবের মাঝেই আলো নিভে গিয়েছিল নদীয়ার রঘুনাথপুর গ্রামে। গতকাল শহীদ সুবোধ ঘোষের মরদেহ কফিনবন্দী হয়ে ঘরে ফিরেছে। চোখের জলে তাঁকে শেষ বিদায় জানিয়েছে রঘুনাথপুর।

জানা গেছে, রবিবার রাত ১১টার পর শ্রীনগর থেকে সুবোধ ঘোষের মৃতদেহ এসে পৌঁছায় তাঁর রঘুনাথপুরের বাড়িতে। ঘরের ছেলেকে শেষ বিদায় জানাতে অত রাতেও সেখানে উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়। সেনাবাহিনীর ট্রাক ঘিরে উঠেছিল কান্নার রোল। সুবোধ ঘোষকে বিদায় জানানো হয়েছিল গান স্যালুটের মাধ্যমে।তরুণ প্রাণের এই অকাল মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি সেই ভিড়ে মিশে ছিল ঘরের ছেলের জন্য গর্বও। দেশের জন্য আত্মবলিদানের গর্ব।

বিএসএফ কর্মী সুবোধ ঘোষ নদীয়ার তেহট্টের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। এদিন সকাল থেকেই তাই তাঁর শেষ যাত্রার জন্য শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি। জাতীয় পতাকায় মুড়ে সাজানো হয়েছিল গোটা গ্রাম। এমনকি তাঁর বাড়ির সামনে তৈরি করা হয়েছিল শহীদ মঞ্চ। যে স্কুলে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন সেই নিমতলা বিদ্যানিকেতনের মাঠেও বাঁধা হয়েছিল অস্থায়ী মঞ্চ। সেখানেই গান স্যালুট দেওয়া হয়। এদিন “ভারত মাতা কি জয়”, ” সুবোধ ঘোষ অমর রহে” স্লোগানের মাঝেই কফিনের উপর কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী।

সুবোধ ঘোষের বাবা সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, “ছেলে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। গর্ব হচ্ছে ঠিকই। তবে সন্তানের চলে যাওয়াটা বড় যন্ত্রণার। কত কষ্ট করে ওকে বড় করেছি। চাকরি পেয়ে সব দায়িত্ব একার কাঁধে নিয়েছিল। ছেলেটাকে আর দেখতে পাব না।” বাঁধ ভাঙা চোখের জলে ছেলেকে বিদায় দেন পরিবারের বাকিরাও। সুবোধ ঘোষের সদ্যোজাত মেয়ের অন্নপ্রাশনের আয়োজন করা হয়েছিল সামনেই। পরের মাসেই ছুটি নিয়ে ঘরে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ঘরে তিনি ফিরলেন ঠিকই, তবে কফিনবন্দী হয়ে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর কাশ্মীরে গুরেজ ও উরি সেক্টরে পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন জেনারেল সুবোধ ঘোষ। পাক সেনারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা চালানোয় প্রাণ যায় সুবোধ ঘোষ সহ আরও কয়েকজন ভারতীয় সেনার।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close