মহানগর

দুর্নীতির অভিযোগ, মোদী-আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে মামলা ভারতীয় চিকিৎসকের

মহানগর বার্তা: গোধরা পরবর্তী গুজরাট দাঙ্গার কারণে আমেরিকা বারবার তাঁর ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেই সময় তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর স্বাভাবিক কূটনৈতিক সৌজন্য মেনে মার্কিন প্রশাসন নরেন্দ্র মোদির ভিসা অনুমোদন করে। তারপর গত আট বছরে বেশ কয়েকবার তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন। সেখানে প্রবাসী ভারতীয়দের নিয়ে জনসভাও করেছেন। কিন্তু ফের মার্কিন মুলকে আইনি ঝঞ্ঝাটে জড়িয়ে পড়লেন নরেন্দ্র মোদি। এক অনাবাসী ভারতীয় চিকিৎসকের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তার নামে সমন জারি করেছে মার্কিন আদালত। একই মামলায় জড়িয়ে সমন পেয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস আর জগনমোহন রেড্ডি ও বিশ্বের তৃতীয় ধনীতম ব্যক্তি গৌতম আদানি।

আমেরিকার কলম্বিয়া প্রদেশের জেলা আদালতে মোদি, জগনমোহন, আদানিদের নামে মামলা দায়ের করেন অনাবাসী ভারতীয় চিকিৎসক লোকেশ ভয়ুরু। অন্ধ্রপ্রদেশে জন্ম লোকেশের। পরবর্তীকালে তিনি আমেরিকায় চলে যান। সেখানে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট হিসেবে তিনি বিখ্যাত। গত ২৪ মে তিনি কলম্বিয়া প্রদেশের জেলা আদালতে নরেন্দ্র মোদি, জগনমোহন রেড্ডি, গৌতম আদানির পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের প্রধান ক্লজ স্কাবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রের খবর, ওই অনাবাসী ভারতীয় চিকিৎসক মোদি, জগনমোহন, আদানিদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি ও আর্থিক তছরূপের অভিযোগ এনেছেন। দায়ের করা মামলায় তিনি জানিয়েছেন দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ মার্কিন মুলকের পাচার করেছেন অভিযুক্তরা। সেইসঙ্গে পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের উপর নজরদারি চালানোর ষড়যন্ত্রেও যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অন্ধপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি, শিল্পপতি গৌতম আদানি ও ক্লজ স্কাবের সমন জারি করে মার্কিন আদালত। গত ৪ আগস্ট সেই সমন ভারতে অভিযুক্তদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তবে এই মামলাকে বিশেষ একটা গুরুত্ব দিতে চাইছেন না ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল রবি বাত্রা। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “চিকিৎসক লোকেশের হাতে অফুরন্ত সময় আছে, তাই তিনি এইসব অবান্তর কাজকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। ওই সমন টয়লেট পেপার ছাড়া আর কিছুই নয়!”

ঘটনা হল, মার্কিন আদালতের এই সমনের জেরে ভারতে খুব সমস্যা না হলেও পরবর্তীকালে আমেরিকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদি জগনমোহন রেড্ডি ও গৌতম আদানির সমস্যা হতে পারে। কারণ বিরোধীদের উপযুক্ত গণতান্ত্রিক পরিসর না দেওয়ার বিষয়টিকে কড়া নজরে দেখে মার্কিন আইন। সেক্ষেত্রে তাঁর বিপুল ব্যবসা সাম্রাজ্য পরিচালনায় সমস্যায় পড়তে পারেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। এমনকি এই সমন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা মিটে না গেলে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির পক্ষেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ কঠিন হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close