দেশ

পেটের জ্বালা বড়ো জ্বালা! গোল্ড মেডেল পেয়েও হাঁড়িয়া বিক্রি করতে হচ্ছে ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নকে

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: ক্যারাটেতে জাতীয় স্তরে মেডেল পেয়েছেন, কিন্তু টাকার অভাবে এখন হাঁড়িয়া বিক্রি করেন বিমলা মুন্ডা। সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করলেও এখনও কোনো ডাক আসেনি। তীব্র অর্থ কষ্টে পেট চালানোর জন্য তাই এই পেশাকেই বেছে নিয়েছেন ঝাড়খন্ডের এই খেলোয়াড়।

জানা গেছে, এক সময় ঝাড়খন্ড রাজ্যকে একাধিক জাতীয় স্তরের মেডেল এনে দিয়েছেন বিমলা মুন্ডা। ২০১১ সালের ৩৪ তম ন্যাশানাল গেমসে তিনি রূপোও জিতেছিলেন। এছাড়া, ২০১২ সালে বলিউড স্টার অক্ষয় কুমার চতুর্থ আন্তর্জাতিক কুডো চাম্পিয়নশিপে তিনি সোনা জিতেছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছিলেন তিনি। ইচ্ছে ছিল আগ্রহীদের ক্যারাটেতে পারদর্শী করে তুলবেন। কিন্তু বাধ সাধল করোনা ভাইরাস। মাস খানেক চলার পরেই দেশ জুড়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য শুরু হল টানা লকডাউন। তারপর আর খোলেনি ক্যারাটে ক্লাস।

এরপর পেট চালানোর জন্য অবশেষে হাঁড়িয়া বিক্রি করার কথা ভাবতে বাধ্য হন বিমলা। তিনি বলেন, “লকডাউনের জন্য আমায় এক মাসের মধ্যে কোচিং বন্ধ করে দিতে হয়। এরপর পেট চালানোর জন্য হাঁড়িয়া বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না আমার।” হাঁড়িয়া হল এক ধরনের মাদক জাতীয় পানীয়। নেশার তৈরির জন্য এর চাহিদা রয়েছে।

জানা যায়, ক্যারাটে পারদর্শী বিমলা মুন্ডা কমার্স নিয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেছেন। বাড়িতে শুধু তাঁর ৮৪ বছরের বৃদ্ধ দাদু আছেন। রাঁচির পত্রগন্ডা গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা। তাঁর মা বাবা থাকেন সগ্রামপুর গ্রামে। বাবা রন্টু মুন্ডা একজন চাষী। বিমলার আরো ছজন ভাইবোন আছে। “আমার বাবার শরীর খুব ভালো না। তিনি বেশি কাজ করতে পারেন না।” জানিয়েছেন বিমলা।

“আমি গ্রামে হাঁড়িয়া বিক্রি করি। দিনে মোটামুটি ৭০ থেকে ৮০ গ্লাস হাঁড়িয়া বিক্রি হয়। প্রতি গ্লাসের দাম ৪টাকা। যা টাকা পাই, সংসারের খরচ চালাতে চলে যায়”, বলেন ২০১৫ সালের অল ইন্ডিয়া ক্যারাটে চ্যাম্পিয়ন বিমলা মুন্ডা।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close