আন্তর্জাতিক

ফের রাজার শাসন চাইছে নেপাল, হিন্দুরাষ্ট্র ফেরানোর দাবিতে উত্তাল কাঠমান্ডু

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি বেশ কয়েক বছর ধরে মাথা চারা দিয়ে উঠেছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে, এমন দাবি করে থাকেন এ দেশের নিন্দুকরা। সংবিধান অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষ হলেও ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরাই। সেই যুক্তিকে হাতিয়ার করে অনেক সময়েই তর্ক জমে ওঠে চায়ের টেবিলে। কিন্তু তাই বলে নেপাল? হ্যাঁ, ভারতবর্ষের এই আপাত শান্ত প্রতিবেশী দেশেই এবার ধর্মের জেরে দেখা গেল অশান্তি।

নেপালকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, এই দাবিতে জাতীয় পতাকা হাতে রাজধানী কাঠমান্ডুতে মিছিল করলেন কয়েকশো মানুষ। শুধু হিন্দু রাষ্ট্রই নয়, আন্দোলনকারীদের দাবি, নেপালে ফিরিয়ে আনতে হবে রাজতন্ত্রও। গতকাল শনিবার এই মিছিল হয় কাঠমান্ডুতে, যার জেরে এখন উত্তপ্ত নেপালের রাজনৈতিক মহল।

সূত্রের খবর, নেপালের এই মিছিলে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা হিন্দু রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দেন। সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ফেরানোরও দাবি তোলেন তাঁরা। নেপালের জাতীয় ঐক্য ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই হিন্দুরাষ্ট্র ও রাজতন্ত্র প্রয়োজন, এমনটাই দাবি আন্দোলনকারীদের।

বস্তুত, বিশ্বের একমাত্র হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে কয়েক বছর আগেও করা যেত নেপালের নাম। রাজতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত নেপাল ছিল ঘোষিত হিন্দু রাষ্ট্র। অবশেষে ২০০৮ সালে ২৪০ বছরের এই রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে নেপালে। স্থাপিত হয় প্রজাতন্ত্র। প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ২০১৫ সালে নতুন সংবিধান গৃহীত হয় নেপালে। এরপর ২০১৭ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সিপিএন-ইউএমএল ও সিপিএন (মাওবাদী) জোট এখন নেপালের শাসনকার্য চালাচ্ছে।

জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির উপর। তিনি সংবিধান প্রণয়ন, গণতন্ত্রকে মজবুত করা এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও কোনও প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এই সময়ে চিনের সঙ্গে নেপালের ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও, নেপালের ভূখণ্ডের বড় অংশ চিন দখল করে নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে ওলির বিরুদ্ধে নেপালে ক্ষোভ বেড়েছে ক্রমশ।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close