দুনিয়া

দেনমোহর হিসেবে ১০১টি বই, ব্যতিক্রমী বিয়ের নজির গড়লেন নিখিল নওশাদ

মহানগর বার্তা ডেস্ক : বিবাহ সবারই জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ একটি বন্ধন। তাই অনেকই বিয়ের কিছু স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে চান। কেউ গভীর সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে ওয়েডিং রিং পরান। আবার কেউ পর্বতের চূড়ায় উঠে বিয়ের দলিলে সই করেন। এরকম আরও কত কি রয়েছে। তবে এসবের থেকে একটু অন্যরমভাবে বিয়ের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখলেন নিখিল নওশাদ। তাঁর গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের সাতরাস্তা গ্রামে। দেনমোহর হিসেবে ১০১ টি বই দিয়ে শান্তনা খাতুনকে বিয়ে করলেন তিনি।

এরকমই এক ব্যতিক্রমী বিয়ের সাক্ষী হলেন কাজী আব্দুল হান্নান। পেশায় আব্দুল বগুড়া ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি কাজী অফিসের রেজিস্ট্রার। শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গোসাইবাড়ী কাজি অফিসে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। নিখিল ‘বিরোধ’ নামের একটি স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদনা করেন। পাশাপাশি বেসরকারি একটি কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। শান্তনা খাতুন উত্তর চেলোপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিক। বরের বাবা শামসুল ইসলাম এ বিয়ের বিষয়ে বলেন, “নিখিল ১০১টি বই দেনমোহর হিসেবে পুত্রবধূকে দিয়েছে। এই বইগুলোর মোট আর্থিক মূল্য ২ লাখ ২ হাজার টাকা।”

কবিতার সূত্র ধরেই নিখিল আর শান্তনার পরিচয়। আর তারপরই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তারা। তবে দাম্পত্য জীবন শুরুর আগে শান্তনার শর্ত ছিল, বিয়ের দেনমোহর হিসেবে উপহার চান ১০১টি প্রিয় বই। সেই প্রিয় বইয়ের তালিকাও দিয়েছেন। বিয়ের পর পারিবারিক একটা গ্রন্থাগার গড়ার স্বপ্ন তাদের। সেখানে দেনমোহরের প্রিয় ১০১টি বই সাজিয়ে রাখবেন।

প্রসঙ্গত, দেনমোহর হল বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। যতক্ষণ না এটি ধার্য করা হচ্ছে, বিয়ে সম্পন্ন হয় না। মূলত, এটি স্ত্রীর প্রাপ্য। মোহরের অংকটা নির্ধারণ করা হয় পাত্রের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী। এছাড়াও পাত্রের অনুমতি ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়। সেই দেনমোহরে আবার পাত্রীর সম্মতি থাকতে হবে। তবেই পাত্র-পাত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে। অন্যথায় বিয়ে সুসম্পন্ন হবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close