আন্তর্জাতিক

ভিক্ষা করে পেট চালাতেন, এখন পাকিস্তানের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার উকিল নিশা

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: বিশ্ব জুড়ে ইদানীং কালে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য সামাজিক পরিসর যে আগের চেয়ে অনেকটাই প্রশস্ত হয়েছে সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। দিকে দিকে সাফল্যের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা। পুরুষ এবং নারীদের চেয়ে তাঁরা যে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই, আরো একবার সে কথাই প্রমাণ করলেন নিশা রাও।

পাকিস্তানের অধিবাসী নিশা রাও একজন ট্রান্সজেন্ডার। বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি পাকিস্তানে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তিনি আজ পাকিস্তানের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের উকিল। অথচ এক সময় তিনিও আর পাঁচ জন ট্রান্সজেন্ডারের মতোই ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নিজের হাতে নিজের জীবন গড়ে তোলার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা কেবল পাকিস্তান নয়, গোটা বিশ্বের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে প্রেরণা জোগাবে বহুদিন।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের আইনজীবী নিশা রাও করাচি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্ত। এছাড়াও তিনি তাঁর কমিউনিটির মানুষদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে এমন একটি এনজিওর সঙ্গেও যুক্ত দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর সংগ্রামকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলেই।

নিশা রাওয়ের জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানের লাহোরে। ১৮ বছর বয়সে তিনি বাড়ি ঘর ছেড়ে করাচি চলে যান। সেখানেই বাকি ট্রান্সজেন্ডারদের সঙ্গে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করতেন। কিন্তু তাঁর পড়াশোনা করার, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা ছিল প্রবল।

জানা গেছে, আইনজীবী নিশা এ পর্যন্ত মোট ৫০টি মামলা লড়েছেন। তাঁর মতে, সমাজের বাকিদের মতো করেই ট্রান্সজেন্ডার বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরকেও সমান চোখে দেখতে হবে। সামাজিক বিভেদ দূর করে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য স্বপ্নের দুনিয়া গড়ে তুলতে চান তিনি। এটাই এখন তাঁর জীবনের লক্ষ্য। পাকিস্তানের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার বিচারকের মর্যাদাও পেতে চান বলে জানিয়েছেন নিশা রাও।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close