খবরদেশ

দেশের ক্ষুধা সমস্যায় মোদীর ‘পাশে’ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, ত্রুটি পেলেন সমীক্ষকদের কাজেই

মহানগর বার্তা ডেস্ক: ক্ষুধা সূচকে ভারতের অবস্থান নিয়ে চিন্তিত হওয়ার তেমন কারণ দেখছেন না নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স অনুযায়ী দেশের এই অবস্থান খুব একটা গুরুতর নয়, জানিয়ে দিলেন বিশ্বের অন্যতম এই অর্থনীতিবিদ।

মাশ্চুটাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কথায়, এই রিপোর্ট মূলত মডেল ভিত্তিক, এর সঙ্গে সমীক্ষা বা জরিপের কাজের কোনও বিশেষ সম্পর্ক নেই, তাই ক্ষুধায় দেশের এত খারাপ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, শিল্প সংক্রান্ত সংস্থা সিআইআইয়ের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালে নিজের বক্তব্য পেশের সময় এর উল্লেখ করেন অভিজিৎ (Abhijit Binayak Banerjee) । এর সঙ্গেই তিনি উল্লেখ করেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের ত্রুটিও। ভারতে লাভজনক পরিকাঠামোর সঠিক প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্থনীতিবিদ। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (Global Hunger Index) রিপোর্ট নিয়ে তাঁর দাবি, আমার মনেহয় তাঁরা মডেলের ভিত্তিতে এটা করেছেন। কতটা সমীক্ষা বা জরিপ করে এই কাজ হয়েছে, সেটা নিয়ে জিজ্ঞাসা রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, এই রিপোর্টের জন্য আয়ারল্যান্ডের সহযোগিতা পায় এমন একটি সংগঠন, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং জার্মানির ওয়েলট হাঙ্গারিলাইফ ২০২১ সালে সমীক্ষা চালায়। যেখানে ২০২০ এর ৯৪তম অবস্থান ছাড়িয়ে ২০২১ এ ১১৬টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান দাঁড়ায় ১০১ এ। যা ২০২২ সালে আরও খারাপ হয়েছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশের তুলনায় আরও খারাপ অবস্থান নিতে দেশের অবস্থান ১০৭ এ। এই নিয়েই আলোচনা হয়েছে বিস্তর। একের পর এক সমালোচনায় সরব হয়েছে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিদ্বজ্জনেরা। ঠিক এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কেন একথা বলছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়?

অর্থনীতিবিদের দাবি, এই ক্ষেত্রে অর্থাৎ গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের অবস্থান স্পষ্ট করতে যে পদ্ধতির মুখোমুখি হয়েছে এই সংস্থা, তা ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকরি নয়। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বৃহৎ জনসংখ্যার এই দেশে মূলত টেলিফোনিক সমীক্ষা বা মতামত নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যেখানে দেশের কোটি কোটি জনতার কাছে মোবাইল ফোনের কোনও সংযোগ নেই। অর্থাৎ যাঁরা আসলে ক্ষুধার্ত, তাঁরা কীভাবে ফোন ব্যবহার করবেন এবং সেই অনুযায়ী উত্তর দেবেন?

এর সঙ্গেই মডেল ভিত্তিক অর্থাৎ নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী গতে বাঁধা সমীক্ষার ভিত্তিতে এই ফলাফল অর্জন করা হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। সেখানে দাঁড়িয়ে এই অবস্থান দেশে মারাত্মক চিন্তিত না হয়ে, দেশের স্বার্থে আসল উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মত তাঁর। যেখানে একশো দিনের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ। তিনি মনে করেন, সরকারি একাধিক প্রকল্প বা নীতির সঠিক প্রয়োগ, মানুষের মধ্যে তার উপকারিতার প্রয়োগের জন্য সঠিকভাবে, সঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সরকারকে এর সার্থক রূপায়ণে ভূমিকা নিতে হবে বলেই মত তাঁর।

নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদের এই মন্তব্যের পরে ক্ষুধা অস্বস্তির মধ্যেও খানিকটা স্বস্তি পাচ্ছে মোদী সরকার। একাধিক ক্ষেত্র নিয়ে সরকারের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স রিপোর্ট নিয়ে খুব একটা চিন্তা না করার কথা বলায়, খানিকটা হালে জল পেল কেন্দ্র, বলছেন অনেকেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close