fff
আধ্যাত্মিক

Pakistan-এ জবরদখল হয়ে থাকা ১২০০ বছরের পুরনো বাল্মীকি মন্দির পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) সংখ্যালঘুরা সুরক্ষিত নয় বলে বারবার অভিযোগ ওঠে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশেষত পাকিস্তানের (Pakistan) হিন্দু (Hindu) ধর্মাবলম্বী মানুষদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে শোনা যায় খবরে। ২০১৭ সালের জনগণনা অনুযায়ী জানা যায়, বর্তমানে পাকিস্তানে (Pakistan) প্রায় চল্লিশ লক্ষ হিন্দু (Hindu) ধর্মাবলম্বী মানুষ বাস করেন। যা পাকিস্তানের (Pakistan) মোট জনসংখ্যার ১.৮৫ শতাংশ। মূলত সিন্ধু প্রদেশ, খাইবার, বেলুচিস্তান প্রভৃতি এলাকায় হিন্দু (Hindu) ধর্মাবলম্বী মানুষদের বসবাস। এর মধ্যে সিন্ধু প্রদেশেই পাকিস্তান (Pakistan) এর সবথেকে বেশি হিন্দু (Hibdu) ধর্মের মানুষ বাস করেন। যা পাকিস্তানে (Pakistna) বসবাসকারী মোট হিন্দু (Hindu) জনসংখ্যার ৯৩.৩৩ শতাংশ। এবং সিন্ধু প্রদেশের মোট জনসংখ্যার ৭.৫০ শতাংশ হিন্দু (Hindu) ধর্মাবলম্বী। রাজধানী ইসলামাবাদে মাত্র ০.০০২ শতাংশ হিন্দু (Hindu) বাস করেন। ২০১০ সালের জনগণনায় বলা হচ্ছিলো যে, পাকিস্তান (Pakistan) রাষ্ট্রটিতে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম হিন্দু (Hindu) জনসংখ্যা রয়েছে। ধারণা করা হয় পাকিস্তানের হিন্দু (Hindu) জনসংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ সাড়ে পঞ্চাশ লাখ হবে। এবং তখন পাকিস্তান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম হিন্দু ( Hindu) জনসংখ্যার রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তখন হিন্দুরা (Hindu) পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশে রূপান্তরিত হবে। এহেন পাকিস্তানে (Pakistan) বারংবার অভিযোগ ওঠে সংখ্যালঘু হিন্দুদের (Hindu) ওপর উৎপীড়নের। সেখানেই এবার ১২০০ বছর পুরানো হিন্দু মন্দির (Hindu Temple) পুনরুদ্ধার করে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দিলো ইভাক্যুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ETPB)।

পাকিস্তান (Pakistan) এর লাহৌরের আনারকলি বাজার এলাকায় একটি বাল্মীকি মন্দির আছে ১২০০ বছর পুরানো। অভিযোগ যে, ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরটি বিগত কুড়ি বছর ধরে ‘জবরদখল’ করে রেখেছিলো একটি খ্রীস্টান পরিবার (Christian Family)। দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে ওই পরিবারটির সঙ্গে। অবশেষে আদালতের রায়ে ১২০০ বছর প্রাচীণ বাল্মীকি মন্দিরটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পাকিস্তান (Pakistan) এর সংখ্যালঘুদের উপাসনাগৃহগুলো তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ইভাক্যুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড বা ইটিপিবি বনাম সংশ্লিষ্ট খ্রীস্টান পরিবারটির (Christian Family) মধ্যে মন্দিরটি নিয়ে মামলা চলছিলো দেওয়ানি আদালতে। অবশেষে আদালত রায় দিয়েছে। খ্রীস্টান পরিবারটির (Christian Family) পক্ষ থেকে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত। ওই মন্দিরটির দায়িত্ব ইটিপিবি-কেই আবার দেওয়া হয়েছে।

ইটিপিবি’র তরফে জানানো হয়েছে, ওই খ্রীস্টান পরিবারের সদস্যদের দাবি ছিলো যে, তাঁরা ধর্মান্তরণের ফলে হিন্দু (Hindu) হয়েছেন। আর এর পর গত দুই দশক ধরে তাঁরা এই মন্দিরের দখল নিয়ে রেখেছিলেন। এবং শুধুমাত্র ‘বাল্মীকি’ বর্ণের হিন্দুদেরই (Hindu) মন্দিরে পুজো করার অধিকার দিতেন। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই মন্দির পুনরুদ্ধার করে সবাইকে প্রবেশাধিকারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ইটিপিবি মুখপাত্র আমির হাশমি সংবাদ সংস্থা পিটিআই এর মুখোমুখো হন। তিনি পিটিআই-কে জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে, সেই অনুযায়ী বাল্মীকি মন্দির পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, “মন্দির থেকে দখলকারীদের উচ্ছেদ করার পর বুধবার কমপক্ষে ১০০ জনেরও বেশি হিন্দু, শিখ এবং খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বাল্মীকি মন্দিরে জড়ো হন। হিন্দুরা তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে ভোগের ব্যবস্থাও করেছিলেন।”

ইটিপিবি’র আরো একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, মন্দিরের ভূমি রাজস্ব নথি অনুযায়ী মন্দিরটি ইটিপিবি-কেই হস্তান্তর করা হয়েছিলো। এবং তারাই এটার দেখভালের দায়িত্বে ছিলো। কিন্তু ২০১০ সালে ওই খ্রীস্টান পরিবার (Christian Family) দাবি করে ওই মন্দির এবং তার লাগোয়া জমির মালিকানার অধিকার তাদের। সেই নিয়েই তারা দেওয়ানি আদালতে মামলাও করে। মামলা চলাকালীন বিগত দুই দশক ধরে ওই মন্দিরের দখলদার ছিলো তারাই। গত মাসে আদালত রায় দেয় ওই পরিবার মিথ্যা মামলা করেছে। ফলে পুনরায় মন্দিরটির অধিকার ফিরে পায় ইটিপিবি।

প্রসঙ্গত দেশভাগের পরে পাকিস্তান (Pakistan) ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়া শিখ এবং হিন্দু মন্দির (Hindu Temple) ও জমি দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে ইটিপিবি। ইটিপিবি পাকিস্তানে মোট ২০০টি গুরুদ্বার এবং ১৫০টি হিন্দু মন্দিরের (Hibdu Temple) তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে।

ইটিপিবি যে বাল্মীকি মন্দিরটি পুনরুদ্ধার করেছে, সেই মন্দিরটিতে ১৯৯২ সালে হামলা চালানো হয়। ভারতে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের পরে, লাহৌরের বিক্ষুব্ধ জনতা তার প্রতিক্রিয়ায় হামালা চালায় ওই মন্দিরে। আগুনও ধরিয়ে দেয়। ফলে আশেপাশের বেশ কিছু দোকানও পুড়ে যায়। সেই মন্দিরকেই পুনরুদ্ধারের পরে ফের নতুন করে গড়ার জন্য পরিকল্পনা করছে ইটিপিবি।

পাকিস্তানে (Pakistan) হিন্দু (Hindu) ধর্মের মানুষদের ধর্মাচারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বারংবার আন্তর্জাতিক মহলে ওঠে। এই ঘটনার মাধ্যমে সেই অভিযোগকেই নস্যাৎ করতে তৎপর পাকিস্তান (Pakistan)। বর্তমানে পুলিশী প্রহরায় রয়েছে মন্দিরটি।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান (Pakistan) এর সংখ্যালঘুদের ধর্মাচারণের অধিকারের জন্য সেই দেশের ভিতরেই সোচ্চার বিভিন্ন মহল। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে হোলি উৎসব পালিত হয় মহা সমারোহে। এই উৎসব পালনে যাতে মৌলবাদীরা বিঘ্ন না ঘটাতে পারে তার জন্য হিন্দু (Hindu) ছাত্র-ছাত্রীদের মানব বন্ধন করে প্রহরা দেন মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীরা। তারাও প্রতি বছর সামিল হন এই আনন্দ উৎসবে।

বর্তমানে পাকিস্তান (Pakistan) সরকারও তাদের ওপর লেগে থাকা সংখ্যালঘু বিরোধী তকমা মুছে ফেলতে তৎপর হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানী ইসলামাবাদে বসবাসকারী হিন্দুরা (Hindu) তাদের জন্য একটি মন্দিরের দাবি তুলেছিলেন। পাকিস্তান (Pakistan) সরকার ২০২০ সালে ইসলামাবাদে একটি হিন্দু মন্দির (Hindu Temple) তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। ইসলামাবাদের সেক্টর ৯-তে প্রায় কুড়ি হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে মন্দির। মন্দিরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘শ্রী কৃষ্ণ মন্দির’। এখানে পূজিত হন শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধা। প্রায় চার ক্যানাল জমি এই মন্দিরের আওতাধীন। পাকিস্তান (Pakistan) সরকার এই মন্দির তৈরির সমস্ত খরচ বহন করেছে। প্রায় দশ কোটি পাকিস্তানি টাকা ব্যায় হয়েছে মন্দির তৈরিতে।

আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের ভাবমূর্তি ফেরাতে তৎপর পাকিস্তান প্রশাসন। তাই বারংবার এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সে দেশের সরকার। এখন দেখার পাকিস্তানে (Pakistan) বসবাসকারী সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের অবস্থার প্রকৃত পরিবর্তন হয় কিনা এই ধরণের পদক্ষেপের মাধ্যমে। আপাততো সেই দিকেই নজর বিশেষজ্ঞ মহলের।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!