মহানগর

রাস্তাতেই প্রসব! গর্ভ যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা মহিলাকে উদ্ধার করলেন পুলিশ কর্মী

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: একুশ শতকের হিংসা, হানাহানি ও স্বার্থপরতার মাঝেও যে মানুষের মন থেকে মানবিকতা একেবারে মুছে যায় নি আরো একবার তা প্রমাণ হয়ে গেল কলকাতার বুকে। কলকাতা পুলিশেরই এক কর্মীর তৎপরতায় রক্ষা পেলেন রাস্তার ধারে পড়ে গর্ভ যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা এক মহিলা। এই ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মীর দায়িত্ব ও কর্তব্যের যে মহান দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেট নাগরিকরা।

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল দুপুর একটা নাগাদ, তিলজলার কাছাকাছি অঞ্চলে। রাস্তার ধারে শুয়ে গর্ভ যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা এক মহিলা কিছুক্ষণের মধ্যে রাস্তাতেই প্রসব করেন এক পুত্র সন্তান। এই ঘটনা তিলজলা ট্রাফিক গার্ডের অ্যাডিশনাল ওসি সৌভিক চক্রবর্তীর নজরে আসতেই তিনি অবিশ্বাস্য তৎপরতার সঙ্গে ওই মহিলা ও শিশুপুত্রকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করেন। তাঁদের অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যান সৌভিক চক্রবর্তী।

বুধবার দুপুরে কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার কথা শেয়ার করা হয়েছে। তাঁদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে করা একটি পোস্টে ঘটনার বিবরণ দিয়ে শেয়ার করা হয়েছে ওই পুলিশ কর্মীর ছবিও। সেই সঙ্গে কলকাতা পুলিশ যে সাধ্যমত সর্বক্ষণ জনগণের পাশে আছে, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের ওই ফেসবুক পোস্টে।

ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, “মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ নিয়মমাফিক রাউন্ডে বেরিয়েছিলেন তিলজলা ট্রাফিক গার্ডের অ্যাডিশনাল ওসি সৌভিক চক্রবর্তী। বাসন্তী হাইওয়ের ওপর চৌবাগার কাছে হঠাৎ তাঁর নজরে পড়ে রাস্তার ধারে শুয়ে অসহ্য গর্ভ যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এক মহিলা। কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলেই একট পুত্রসন্তানও প্রসব করেন তিনি।” পোস্টে আরও লেখা হয়, বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে মা ও সদ্যোজাতকে চিত্তরঞ্জন ন্যশনাল মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান ওই পুলিশ অফিসার। শুধু তাই নয়, ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাত্রাপথের প্রতিটি সিগনাল খোলা রাখারও ব্যবস্থা করেন তিনি। যোগাযোগ করেন মহিলার পরিবারের সঙ্গেও।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আপাতত সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন সেই মহিলা এবং তাঁর শিশুপুত্র। তবে পুলিশ প্রশাসনের কর্তব্যের যে দৃষ্টান্ত সৌভিক চক্রবর্তী স্থাপন করলেন তা নিঃসন্দেহে মনোবল বাড়াবে সাধারণ জনগণের।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close