মহানগর

‘পদ ছাড়া মানুষের কাজ’, ‘দাদার অনুগামী’দের পোস্টারে ছেয়ে গেল দক্ষিণ কলকাতার দেওয়াল

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় অসন্তোষের যে কালো মেঘ দেখা দিয়েছিল শাসক শিবিরের আকাশে তা আরো ঘনিয়ে উঠেছিল শুভেন্দু অধিকারী পরিবহন মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর। হেভিওয়েট এই তৃণমূল নেতাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে শাসক দলের অন্দরে। এখনও পর্যন্ত দল ছেড়ে না বেরোলেও তাঁকে ঘিরে জিইয়ে আছে ধোঁয়াশা। সেই ধোঁয়াশাকেই এদিন আরো খানিক উস্কে দিল শহরের কিছু পোস্টার।

এদিন খাস দক্ষিণ কলকাতার শহরের বুকে দেখা গেল শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থকদের পোস্টার, যাতে দলের বাইরে থেকে মানুষের জন্য কাজ করার বার্তা খুব স্পষ্ট। পোস্টারে শুভেন্দু অধিকারীর ছবির পাশে লেখা হয়েছে —মানুষের কাজ করতে কোনও পদ লাগে না। পোস্টারের তলায় লেখা, ‘আমরা দাদার অনুগামী’।

বুধবার সকাল থেকে যাদবপুর ৮-বি বাসস্ট্যান্ড, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট ও বাসন্তী দেবী কলেজ সংলগ্ন এলাকা, রাসবিহারী, সাদার্ন অ্যাভিনিউ-সহ বিভিন্ন অঞ্চল ছেয়ে গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনকারী এই পোস্টার। বলা বাহুল্য দলের কোনো নামোল্লেখ দেখা যায় নি পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সমস্ত পোস্টারে।

বস্তুত, শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে এহেন পোস্টার নতুন নয়, শাসকদলের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েনের সময় থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরণের পোস্টার পড়তে দেখা যায়। বিভিন্ন জেলার তাঁর অনুগামীরা পোস্টার-ব্যানার-ফ্লেক্স টাঙিয়েছেন বারবার। এমনকি, গত মাসেও হাজরা মোড়-সহ দক্ষিণ কলকাতার কয়েকটি এলাকায় ‘আমরা দাদার অনুগামী’ পোস্টার দেখা গিয়েছিল। ‘বিনম্রতায় হও অবনত, প্রতিবাদে ঠিক তত উদ্ধত। মধুলোভী করে ক্ষমতা মিছিল, তুমি ছুড়ে দাও মৌচাকে ঢিল’ , এই ছিল পোস্টারের বার্তা। শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়-সহ উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকাতেও শুভেন্দুর পোস্টার দেখা গিয়েছিল এর পর।

উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টারে ‘পদ ছাড়া মানুষের কাজ’ করার এই বার্তা রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করার বদলে তা গুলিয়ে দিচ্ছে বারবার। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় যে আর থাকতে চাইছেন না পূর্ব মেদিনীপুরের বিধায়ক তারই ইঙ্গিত মিলছে নিশ্চিত ভাবেই।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close