দেশফিচারবিনোদনরাজনীতিশিক্ষাসাক্ষাৎকারসিনেমা

রিয়ার অওকাত নিয়ে কথা বলা সেই পুলিশ অফিসার বিহারের ভোট প্রার্থী? জল্পনা তুঙ্গে

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: ভিআরএস নিলেন বিহার পুলিশের ডিজিপি গুপ্তেশ্বর পান্ডে। ইতিমধ্যে নীতিশ কুমারের সরকার গুপ্তেশ্বর পান্ডের এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে তিনি যে কার্যকাল শেষ হওয়ার আগেই অবসর নিতে পারেন এমন জল্পনা কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। এবার তা সত্যি হল। প্রসঙ্গত, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলায় তাঁর একটি মন্তব্য শিরোনামে এসেছিল।

বরাবরই তিনি পরিচিত বিহার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের প্রিয় লোক হিসাবেই। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সখ্যতা একটু বেশি। শোনা যাচ্ছে, বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জেডিইউ বা বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হচ্ছেন তিনি। জিতে এলে রাজ্যের মন্ত্রিসভাতেও জায়গা পেতে পারেন। তবে এগুলির কোনওটাই এখনও নিশ্চিত নয়। সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু মামলায় বিহারের ডিজিপির একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে বহু জলঘোলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছে মহারাষ্ট্র সরকার। আসলে এই গুপ্তেশ্বর পাণ্ডের নেতৃত্বেই সুশান্ত মৃত্যু মামলায় মহারাষ্ট্র পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গিয়েছে বিহার পুলিশ। তাঁর নেতৃত্বেই বিহার পুলিশের একটা দল একপ্রকার জোর করে মুম্বই গিয়ে এই মামলার তদন্ত শুরু করে। এমনকী, এই মামলায় মূল অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তীকে নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন এই গুপ্তেশ্বর। আসলে এই মামলাকে কেন্দ্র করে বিহার বনাম মহারাষ্ট্রের যে অঘোষিত একটা লড়াই দেখা গিয়েছিল, তাঁর নেপথ্যে ছিলেন এই গুপ্তেশ্বর পাণ্ডেই।

বুধবার তিনি এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান যে তাঁর ভিআরএস নেওয়ার সঙ্গে সুশান্ত সিং কেসের কোনও সম্পর্ক নেই এবং যদি কেউ এটা গুলিয়ে ফেলেন তবে সেটা তাঁর ভুল। তিনি জানান যে তিনি শুধু সুশান্তের বৃদ্ধ বাবকে এফআইআর করতে সাহায্য করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টও বিহার পুলিশের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। পাণ্ডে জানিয়েছেন যে তাঁর ৩৪ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কখনও কোনও অপরাধীর সঙ্গে আপোস করেননি এবং তিনি ৫০টি এনকাউন্টারের সঙ্গে যুকটত ছিলেন। পাণ্ডে এদিন স্পষ্ট করে বলেন, ‘‌তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না এখন এবং আদৌও যোগ দেবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। এখন শুধু সামাজিক কাজ করে যাব, রাজনীতিতে না প্রবেশ করেও।’‌

আইপিএস অফিসার হিসেবে প্রায় ৩৩ বছর সেবা করেছেন গুপ্তেশ্বর পান্ডে। তিনি বিহারের বেশ কয়েকটি জেলায় এসপি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ডিআইজি, আইজি ও এডিজি পদে থাকাকালীন তিনি অপরাধ দমনে অনেক বড় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ডিজিপির দায়িত্ব নেওয়ার পরে গুপ্তেশ্বর পান্ডে বলেছিলেন যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণই তার প্রথম কাজ হবে। গুপ্তেশ্বর পান্ডের হঠাৎ অবসর গ্রহণের পরে, সিভিল ডিফেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসেসের ডিজি সঞ্জীব কুমার সিংঘলকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ডিজিপি বিহারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close