দেশরাজনীতি

গ্রেফতার রাহুল গান্ধী, হাথরাস নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গেলে মারধোর পুলিশের

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশের হাথরাস গণধর্ষণ কান্ডের নির্যাতিতা দলিত তরুণীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে চরম হেনস্থার সম্মুখীন হলেন রাহুল গান্ধী এবং তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। প্রকাশ্য রাজপথে গলা ধাক্কা দিয়ে মাটিতে আছাড় মেরে ফেলে দেওয়া হল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। যোগী রাজ্যের পুলিশের আক্রমণে হাতে গুরুতর চোটও পেয়েছেন তিনি। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।

 

বস্তুত, হাথরাসের গণধর্ষিতা দলিত তরুণীর পরিবারের পাশে থাকার অভিপ্রায়ে আজ দুপুরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরীও। অভিযোগ, কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল হাথরাসের উদ্দেশ্যে রওনা হতেই নয়ডায় তাঁদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়৷ পাশাপাশি হাথরাসের সমস্ত রাস্তাও সিল করে দেয় পুলিশ৷ বন্ধ করে দেওয়া হয় দিল্লি-নয়ডা হহাইওয়ে৷ হাথরাসে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা৷

এমতাবস্থায়, দিল্লি-নয়ডা হাইওয়েতে গাড়ি আটকে দেওয়া হলে রাজপথের উপরেই পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ কার্যত খন্ডযুদ্ধে পরিণত হয়। জানা যাচ্ছে, পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই এগোনোর চেষ্টা করেন রাহুল৷ কিন্তু তাতে বাধা দেয় যোগীর পুলিশ৷ রাহুল গান্ধীকে গলা ধাক্কা দিয়ে মাটিতে দেওয়া হয়৷ হাতে আঘাত লাগে তাঁর৷ পরিস্থিতি সামলে শেষপর্যন্ত পায়ে হেঁটে এগোনোর চেষ্টা করেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা৷ কিছুটা এগিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন তাঁরা৷ ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করার দায়ে রাহুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, হাথরাসের দলিত তরুণীর গণধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই নিন্দার গর্জে উঠেছে সারা দেশ। এরপরও বলরামপুর ও আজমগড়ে আরো দুটি ধর্ষণের ঘটনার খবর সামনে আসে। স্বভাবতই যোগীরাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, “ওই তরুণীর মৃত্যু হয়নি৷ তাঁকে খুন করেছে সে রাজ্যের নির্মম সরকার৷ তাঁর দেহ জোড় করে দাহ করা হয়েছে৷ দেশের কোটি কোটি মানুষ এই ঘটনায় ব্যথিত৷’’ এই প্রেক্ষাপটেই আজ কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর পুলিশি আক্রমণ নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে উত্তর প্রদেশের প্রশাসনকে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close