দেশআন্তর্জাতিক

বিতর্কিত নয়া মানচিত্র সহ পাঠ্য বইয়ের বিতরণ স্থগিত রাখল নেপাল সরকার, জানুন কারণ

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: ভারতের ভূখণ্ড নিজেদের বলে দাবি করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিল নেপাল। এমনকী সেই মানচিত্র মান্যতা পেয়েছে খোদ দেশের সংসদেও। তারপর নয়া মানচিত্র পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের জেরে পিছু হঠল নেপাল সরকার। সেই পাঠ্যবই বিতরণও স্থগিত রাখল সেই দেশের শিক্ষাদপ্তর। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্যগত ত্রুটির জন্য বই বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে নেপালের এই পদক্ষেপ নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে। প্রসঙ্গত, নেপাল সরকার ভারতের ভূখণ্ডের লিপুরেখ, লিমপিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করেছে। এরপর থেকেই ভারতের সঙ্গে নেপালের বিরোধ চরমে ওঠে। জানা গিয়েছে, এর আগে নেপাল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে দ্রুত পাঠ্যবইয়ে নতুন মানচিত্র যোগ করে তা নতুন শিক্ষাবর্ষের পঠন পাঠনের জন্য বিতরণ করা হবে। তবে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে নেপালের সরকার। এদিন নেপালের শিক্ষামন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ স্থগিত রাখা হোক। ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বিদেশমন্ত্রকের পর্যবেক্ষণের পরই তা শুরু হবে।

পাঠ্যবইয়ে নতুন মানচিত্রের ভুল–ত্রুটি ঠিক করার জন্য শিক্ষামন্ত্রকের এক্তিয়ার নেই। ভূমি সংস্কার ও সমবায় মন্ত্রকের মুখপাত্র জনকরাজ যোশী একথা জানিয়েছেন। নেপাল সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করবে। উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেপালের শিক্ষামন্ত্রী গিরিরাজ মণি পোখারেল নেপালের ভূখণ্ড ও সীমান্ত সংক্রান্ত একটি ১১০ পাতার বই প্রকাশ করেন। সেখানেই ভারতের সঙ্গে নেপালের দীর্ঘদিনের সীমানা বিবাদ নিয়ে উল্লেখ রয়েছে। বইটিতে বলা হয়েছে, নেপালের নতুন অঞ্চল হবে ১৪৭,৬৪১.২৮ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে শুধু কালাপানি এলাকা ধরা হয়েছে ৪৬০ বর্গকিলোমিটার। যা মন্ত্রিপরিষদের দ্বারা ২০ মে নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রসঙ্গত, মানস সরোবর পর্যন্ত তীর্থযাত্রা আরও সুগম করতে উত্তরাখন্ড থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার লম্বা সড়ক তৈরি করেছে ভারত। এ পথের উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ পথ তৈরি হলে সময় বাঁচবে। যেটা মোটেই ভালোভাবে নেয়নি নেপাল। এটা নিয়ে ক্ষুব্ধ দেশটি। ওই সড়ক দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত বলে আগেই সমালোচনা করেছিল কাঠমান্ডু। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ভারত-নেপাল সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছিল নেপাল। এরপর থেকে নেপাল-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ খানিকটা অবনতি হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close