আম আদমি

পথ কুকুরদের মন বুঝতে গবেষণা! নজির সৃষ্টি বর্ধমানের শিক্ষকের

মহানগর বার্তা ডেস্ক: মা গিয়েছে খাবার জোগাড়ে। আর সদ্যজাতকে দেখে রাখছে দিদা, মাসি অথবা মায়ের অনুপস্থিতে বাচ্চা সামলাচ্ছে বাবা! এই ছবি আমাদের সকলেরই প্রায় চেনা। প্রত্যেক মুহূর্তেই পরিবারের মধ্যে এমন অভিজ্ঞতা সকলেরই। কিন্তু ওরা? যারা আপনার-আমাদের মতো মানুষ নয়, ওটা রাস্তার কুকুর! ওদের মধ্যেও রয়েছে এমন সত্তা। নাহ্, বাবা কুকুর নাকি বাচ্চা দেখে না, এই বদনাম এখানে নেই, বরঞ্চ রয়েছে বাচ্চাদের আগলে রাখার ইতিহাস। বছরের পর বছর ধরে কুকুর নিয়ে এমনই সব অজানা তথ্য প্রকাশ করে চলেছেন বর্ধমানের সুনীল পাল। রাস্তার কুকুরের জীবন, অভ্যাস, আচরণ নিয়ে গবেষণা করাই তাঁর কাজ। পেশায় প্রাণিবিদ্যার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুনীল পাল। ১৯৮৪ সাল থেকে কাটোয়ার ভারতী ভবনে শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

কীভাবে এল এই ভাবনা? বর্ধমানের কেতুগ্রামের ভবানীবেড়ার বাসিন্দা সুনীল বর্তমানে থাকেন কাটোয়া অঞ্চলে। ছোটবেলা থেকেই রাস্তার কুকুরদের নিয়ে তাঁর দারুণ আগ্রহ। ১৯৭৫ সালে মাধ্যমিক। তারপর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বর্ধমান রাজ কলেজে প্রাণিবিদ্যা নিয়ে পড়াশুনা। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরেই ১৯৯৫ সাল থেকে গবেষণা শুরু। চার বছর লাগে এই বিষয়ে গবেষণা করতে। সুনীলের এই কাজ সমাদৃত হয়েছে বিশ্বের বহু দেশে। আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো, আমেরিকা, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, চিন, গ্রিসে গিয়েছেন তিনি। একই বিষয়ে কাজ করতে এসেছেন বিদেশি গবেষকরা। থেকেছেন তাঁর তত্ত্বাবধানে। বহুবার গবেষণার সময় সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন কিন্তু পাননি, আক্ষেপ সুনীলের। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা-র একটি প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, ‘এদেশে শুধু ইগোর লড়াই। দুর্ভাগ্য দেশে কোনও মর্যাদা নেই। তবে বিদেশীরা আমার গবেষণার সম্মান করছে, এটাই বড় বিষয়।’ ওই প্রতিবেদনেই তাঁর দাবি, ‘প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি থাকার সময় সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখেছি তাতে কিছু হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলাম। রাজ্যের ব্যাপার বলে সেই চিঠি এখানে পাঠিয়েছে। কিন্তু কোনও সরকারি সাহায্য পাইনি গবেষণার জন্য। তবে আমি কাজ চালিয়ে যাব। ২০১৮-তে শিক্ষারত্ন দিয়েছে রাজ্য সরকার।’

এখন কুকুরের বাচ্চা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। জননের মরশুম, জননীর আচরণ। সমস্ত দিক নিয়েই কাজ তাঁর। কুকুরের পরিবার নিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে চলেছেন এই শিক্ষক। পোষ্য হিসেবে কুকুর নেওয়ার ক্ষেত্রে পরামর্শে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর। ৭-১০ সপ্তাহ বয়সের কুকুর-শাবক পোষার জন্য উপযোগী, এমনও বলেন এই কুকুর বিশারদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close