খবরদেশ

আরএসএসের মুখে নারী অধিকারের কথা, দলে মহিলাদের সংখ্যা বাড়াতে চায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন

মহানগর বার্তা ডেস্ক: যতদিন মহিলাদের সমান অধিকারের কথা বিবেচিত না হবে, ততদিন দেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। দশমীর মিলন অনুষ্ঠানে নাগপুরে দাঁড়িয়ে একথা বলেছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। আর একথা বলার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ্যে এলো সংগঠনে মহিলাদের গুরুত্ব নিয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আরএসএসের সমন্বয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শুধুমাত্র শাখা সংগঠন নয় সামগ্রিকভাবে সমস্ত ক্ষেত্রেই মহিলা সদস্য এবং তাঁদের দ্বারা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভাবনায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হবে মহিলা সদস্যের সংখ্যা। যা এতদিন মূলত আরএসএসের কৃষক, শ্রমিক, মহিলা সহ একাধিক শাখা সংগঠনে বিস্তারিত ছিল। সর্বক্ষণের কর্মী থেকে শুরু করে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা, নেতৃত্ব। সর্বত্র মহিলা সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে আরএসএস।

কী ভাবা হচ্ছে এই সংগঠনের তরফে? হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যাচ্ছে যে, রাষ্ট্রীয় সেবিকা সংঘের নামে আরএসএসের মহিলা শাখার বিস্তার ঘটানো হবে। যা বিভিন্ন শাখা সংগঠনের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ছিল, সেটাই এবার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ সব জায়গায় মহিলা প্রতিনিধিত্ব রাখতে আরও বেশি তৎপর হচ্ছে আরএসএস। যেখানে মোট সদস্যের ৩৩ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সদস্য মহিলা মুখ রাখার কথাও ভাবা হচ্ছে। যা ইতিমধ্যেই ভারতীয় জনতা দল অর্থাৎ বিজেপি-র সংগঠন ক্ষেত্রে রয়েছে। যেখানে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রেও মহিলাদের সুযোগ রয়েছে।

বরাবর, আরএসএসের পোশাক এবং যাবতীয় কার্যকলাপ নিয়ে অভিযোগ ওঠে মহিলা বান্ধব নয় এই সংগঠন। বারবার বলা হয়, আরএসএস মহিলাদের গুরুত্ব দেয় না। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, কিষাণ সংঘ, শ্রমিক সংঘের মতো সংগঠনে মহিলাদের আধিক্য রয়েছে। কৃষক সংগঠনে প্রায় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে একাধিক মহিলা রয়েছেন। এবার সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আরও মহিলা বান্ধব হতে চাইছে আরএসএস। যেখানে মজদুর সংঘের মতো শাখা সংগঠনের মতো স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের আদলে দিকে দিকে মহিলা সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত আরএসএস।অর্থাৎ পুরুষের আধিক্য নয়, মহিলাদের আধিক্য বিস্তারে সচেষ্ট হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আরএসএস।

রাজ্যের এক আরএসএস। এটা আমাদের জানান, ”সবসময় আমরা অর্থাৎ আমাদের সংগঠন মহিলাদের স্বশক্তিকরণে আগ্রহী। যা বলা যায়, সেটা ভুল প্রচার। সেই আগ্রহ এবার আরও যাতে বাড়ে, সেই চিন্তায় চলছে।”

বুধবার নাগপুরে মোহন ভাগবত বলেন, দেশের সংস্কৃতিতে মহিলা, পুরুষের ভূমিকা রয়েছে। সেই সূত্রেই দেশের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মহিলাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সমান ভূমিকার দিকে এগোলেই দেশের সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব।”

মোহন ভাগবতের এই মন্তব্যের পর, আরএসএস সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ, দাবির নিরসনের লক্ষ্যে সরব হয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন, আসলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ সম্পর্কে যা যা বলা হয়, তার যে সবটা ঠিক নয়, একথা পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁদের নেতা। আবার বিপরীত একটি অংশের দাবি, ২০২৪ এর আগে মহিলাদের নিয়ে আরএসএসের এত ভাবনা ভোটের সঙ্গে বিজেপির ভালো হওয়ার জন্য হলেও হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close