fff
দেশ

Russia-Ukraine news:হিংসার মাঝে সম্প্রীতি! রাশিয়ান পাত্র বিয়ে করলেন ইউক্রেনের পাত্রীকে

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ রাশিয়া বনাম ইউক্রেনের (Russia-Ukraine War)যুদ্ধ এখন বিশ্ব রাজনীতির সবথেকে আলোচিত বিষয়। আগামীদিনে বিশ্ব রাজনীতি কোনদিকে এগোবে তার ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারিত হবে এই যুদ্ধের ফলাফলের ওপর। অনেকে রাশিয়া বনাম ইউক্রেন(Russia-Ukraine) এর এই সংঘাতের আবহে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভ্রূকুটিও দেখতে পাচ্ছেন। এই যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়ো ধাক্কা দিয়েছে। গোটা বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই কার্যত বিবদমান দুই শিবিরে ভাগ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দামেও প্রভাব পড়েছে রাশিয়া বনাম ইউক্রেন(Russia-Ukraine)এর এই সংঘাতের। কিন্তু কাঁটাতারের এপার বনাম ওপারের এই সংঘাত প্রেমের পথে দেওয়াল তুলতে পারেনি। যুদ্ধের এই আবহ প্রেমকে রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন প্রতিনিয়ত। রাষ্ট্রপুঞ্জে প্রতিদিন জোর তরজা (Russia-Ukraine War)চলছে এই যুদ্ধ নিয়ে। পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে রাশিয়াও আত্মপক্ষ সমর্থনে সোচ্চার হচ্ছে ক্রমশ। ঠান্ডা লড়াইয়ের মৃতপ্রায় ভূত জেগে উঠছে কবর খুঁড়ে। তখন চুপিসারে দুই তরুণ-তরুণীর প্রেম পরিণতি পাচ্ছে, যুদ্ধের(Russia-Ukraine Waar)ময়দান থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে। বিশ্বের তামাম রাষ্ট্রনায়কদের বিতন্ডা থেকে দূরে সরে, সমস্ত চাপানউতোরকে উপেক্ষা করে চার হাত এক হচ্ছে ভারতের হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায়। এখানে প্রেমিক রাশিয়ান যুবক আর প্রেমিকা ইউক্রেনিয়ান(Ukrainian) যুবতী। যুদ্ধের প্রভাব তাঁদের প্রেমকে আলাদা করতে পারেনি।

সেরগেই নভিকভ রাশিয়ান (Russian)হলেও বর্তমানে ইজরায়েলেই(Israel) বাস করেন। তাঁরই প্রেমিকা ইলোনা ব্রামোকা ইউক্রেনের(Ukrainian) বাসিন্দা। এই দুই প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ে করলেন হিমাচল প্রদেশে। হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় আশ্রম খারোটাতে দিব্য চার হাত এক হলো এই প্রেমিক যুগলের। দুজনের বিয়ে হলো সনাতন ধর্ম মেনে। সনাতন ধর্মের সমস্ত আচারও পালিত হলো সাড়ম্বরে।

‘দেশী নিয়মে বিদেশী বিয়ে’ নিয়ে উৎফুল্ল ধর্মশালার মানুষরা। সেখানকারই কাঙ্গরী ধামে আয়োজন হয়েছিলো অতিথী আপ্যায়নেরও।

সেরগেই নভিকভ এবং তাঁর প্রেমিকা ইলোনা ব্রামোকা বিগত দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া বনাম ইউক্রেন (Russia/Ukraine) এর এই যুদ্ধের আবহের কারণে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন বাইরে কোনো জায়গায় বিয়ে করার। সেই কারণেই তাঁরা বেছে নেন ভারতের হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালাকে।

আশ্রম খারোটার পুরোহিত পন্ডিত সন্দীপ শর্মাও আনন্দিত এই বিয়ে নিয়ে। তিনি জানান, বিগত এক বছর যাবত সেরগেই নভিকভ এবং তাঁর প্রেমিকা ইলোনা ব্রামোকা ধর্মশালার নিকটেই ধর্মকোটে বাস করছিলেন। পন্ডিত সন্দীপ শর্মা একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমাদের পুরোহিত পন্ডিত রামন শর্মা তাঁদের বিয়ের পৌরহিত্য করেন। এবং তাঁদের কাছে সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য ব্যাখ্যা করেন। ব্যাখ্যা করেন সনাতন ধর্মমতে বিয়ের গুরুত্বও।”

পাত্র-পাত্রীর ‘পরিবার’ হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে সমস্ত আচার পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দা বিনোদ শর্মা ও তাঁর পরিবার। এমনকি ইলোনা ব্রামোকার কন্যাদানও করেন বিনোদ শর্মা। ধর্মকোটে আসা অন্যান্য বিদেশী পর্যটক এবং অতিথিরাও সমস্ত ধর্মীয় রীতি এবং বিয়ের আচার পালন করেন উৎসাহের সঙ্গে। এই বিয়ে তাঁরা উপভোগও করেন।

সেরগেই নভিকভ এবং ইলোনা ব্রামোকা দুজনেই ঐতিহ্য মেনে ভারতীয় বিয়ের পোষাকে সেজেছিলেন। এই বিয়ের পুরোহিত পন্ডিত রামন শর্মা তাঁদের বিয়ের মন্ত্রোচ্চারণ করান। এই প্রেমিক যুগল উৎসাহের সঙ্গে সেইসব মন্ত্র পড়ায় যোগদান করেন। সনাতন ধর্ম মতে উচ্চারিত এইসব সংস্কৃত মন্ত্র, এই প্রেমিক যুগলকে বোঝানোর জন্য হাজির ছিলেন একজন অনুবাদক। তিনিই প্রতিটা মন্ত্রের অর্থ সেরগেই ও ইলোনাকে বুঝিয়ে দেন।

নববিবাহিত এই বিদেশী দম্পতিকে নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহিত ছিলেন ধর্মকোট ও ধর্মশালার মানুষরাও। দিব্য আশ্রম খারোটার পুরোহিত, পন্ডিত, অধিবাসীরাও উৎসাহের সঙ্গেই যোগ দেন এই বিবাহে। সবাই নববিবাহিত এই বিদেশী দম্পতিকে প্রাণ ভরে আশির্বাদ করেছেন।

রাশিয়া বনাম ইউক্রেন(Russia/Ukraine)যুদ্ধের মধ্যে এই দুই প্রেমিক প্রেমিকার নতুন জীবনের সূচনা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবহের সারাজীবনের জন্য হাত ধরে একসঙ্গে চলার শপথ নিলেন সেরগেই ও ইলোনা। যুদ্ধের আগুন তাঁদের প্রেমকে পোড়াতে পারেনি। রাষ্ট্রপ্রধাণদের যুদ্ধের দামামার মধ্যে বিয়ের সানাইয়ে মজলেন সেরগেই আর ইলোনা। মজালেন বাকিদেরও। তার সাক্ষী থাকলো এদেশেরই ধর্মশালার একটি আশ্রম। সেরগেই আর ইলোনার এই প্রেমের পরিণতির প্রভাব হয়তো রাশিয়া বনাম ইউক্রেন (Russia/Ukraine) এর যুদ্ধের ওপর পড়বেনা। তবুও দুজনের এই প্রেম ও তার পরিণতি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের সমর সজ্জা বাড়ছে। দুই দেশই একে অপরকে আরো জোরালো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু সেরগেই আর ইলোনা যুদ্ধের ধ্বংস নয়, নতুন সৃষ্টির জন্য বাঁধা পড়লেন সাতপাঁকে। এই দুই প্রেমিক যুগলের বিয়ে যুযুধান দুই দেশের বাসিন্দা হিসাবে নতুন ইতিহাস তৈরি করলো। রাশিয়া বনাম ইউক্রেনের যুদ্ধের পরিণতি কী হবে তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে রাশিয়ান(Russian) যুবক সেরগেই নভিকভ এবং ইউক্রেনিয়ান(Ukrainian) যুবতী ইলোনা ব্রামোকার প্রেম যে পরিণতি পেলো তাতে আশার আলো দেখছেন অনেকেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!