রাজ্য

গলায় ক্যানসার, হুইলচেয়ারের যন্ত্রণা নিয়েই মাধ্যমিক যুদ্ধ জয় সাবিনা-অরিজিৎদের

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: রোজকার শহুরে মানুষের সাফল্যের গল্প শুনতে শুনতে গ্ৰামজীবনের অনেক কথা অজানাই থেকে যায়। যাদের জীবন মানেই প্রতিকূলতার সাথে লড়াই। এই লড়াইয়ের দুই সফল যোদ্ধা অরিজিৎ ও সামিনা। জন্মের পর ১১মাস বয়সেই জানা যায়, অরিজিৎ কোনোদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেনা। সেই প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে মাধ্যমিকে সফল সে। যুদ্ধ জয়ের গল্পে আর এক জয়ী জামালপুরের সামিনাও। সে গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত, নিয়ম করে কেমো নিয়ে ঝরে গিয়েছে মাথার সব চুল কিন্তু মনের মধ্যে রয়েছে পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।

সেরিব্রাল পলিসিতে আক্রান্ত অরিজিতের মা জানান, ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে মাধ্যমিকে ৭৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে ছেলে। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবাকে হারায় , সে বালি শিক্ষা নিকেতন বিদ্যালয়ের ছাত্র। তারপর থেকে দারিদ্র্য আর প্রতিবন্ধকতা কিছুই অরিজিতের মেধাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। এবছর মাধ্যমিকে বাংলা, ইংরাজি, ইতিহাস ও ভূগোলে লেটারসহ তাঁর মোট প্রাপ্ত নম্বর ৫৫১। মায়ের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকদেরও অপরিসিম সহায়তা পেয়েছে সে। সাফল্যের কারণ জানতে চাওয়া হলে, অরিজিৎ বলে, “নিজের যেটা ভালোলাগে তা খুঁজতে হবে। সমস্যা অনেক এলেও লড়াই করে জিততে হবে”। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে গবেষণার ইচ্ছে এই মেধাবী ছাত্রের।

জামালপুরের সামিনার ক্যান্সারের যন্ত্রণা এখন নিত্যসঙ্গী। সেই যন্ত্রণাকে সরিয়ে মাধ্যমিকে প্রথমবারেই সফল সে।মাধ্যমিকে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ২০৪, সবচেয়ে বেশি নম্বর ইংরাজিতে।সামিনার বাবা খেতমজুর, মা নুর জাহান বেগম জানান মাধ্যমিক শুরু হবার আগের দিনও কেমো নিতে হয়েছে সামিনাকে। তবে তাঁর বাবার আক্ষেপ অর্থের অভাবে ভালোমন্দ পথ্য জোগাতে পারেননা মেয়ের। তবু তো পিছিয়ে পড়েনি সামিনা, সে জানায় “গলা থেকে দুই কানের নীচেও ক্যান্সার ছড়িয়েছে চিকিৎসা চলছে। তবে জ্বর থাকে, গলায় ব্যথার জন্য খেতে কষ্ট হয়। কিন্তু প্রথম চেষ্টাতেই মাধ্যমিক পাশ করতে পেরে ভালো লাগছে। এ ভাবেই উচ্চমাধ্যমিকও পেরোতে চাই।” আগামী দিনে শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন সামিনা।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close