রাজনীতিরাজ্য

‘মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ না করে, পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ভাবুন’, শুভেন্দুকে কটাক্ষ রাজীবের

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: একদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় রদবদল, আরেকদিকে বঙ্গ বিজেপিতে ফাটল। আজ দিনভর শিরোনামে বিজেপির নেতৃত্বরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় যখন নতুন করে মন্ত্রীত্ব পদ পাবে বলে ডেকে পাঠানো হচ্ছে শান্তনু ঠাকুর, নিশীথ প্রামাণিকদের, বঙ্গে তখন রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চা পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। ইস্তফার পর স্পষ্ট ভাবে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপর। ছলে বলে কৌশলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে শুভেন্দুর অতি সক্রিয়তা’ই তাঁর যুব মোর্চা থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ। যদিও বিজেপি ছাড়ার প্রশ্নে তিনি সরাসরি জানিয়েছেন যে ‘বিজেপি ছেড়ে কোথাও যাচ্ছেন না।’

এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন তিনি। সেখানেই একের পর এক বাক্যবাণ ছুঁড়ে দেন শুভেন্দু অধিকারীর উপর। ‘দিল্লির নেতাদের ভুল বোঝানো’ থেকে শুরু করে, ‘নিজেকে দলের চেয়ে বড়ো বলে জাহির করা’ ইত্যাদি শুভেন্দুর একাধিক স্বভাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান তিনি।

সৌমিত্র খাঁয়ের কথায়, “দল এককেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। একমুখী হয়ে যাচ্ছে। শুধু অধিকার অধিকার,অধিকারী, অধিকারী চলছে। বারবার দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বোঝাচ্ছেন একজন।” পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন “বিরোধী দলনেতা নিজেকে বিরাট করে জাহির করছেন, যখন তৃণমূলে ছিলেন তখনও নিজেকে বিশাল কিছু মনে করতেন। মনে হচ্ছে দলে শুধু ওঁরই অবদান রয়েছে। আমাদের কোনও ত্যাগ নেই। নতুন নেতা হঠাৎ করে এসে যেভাবে দিল্লির নেতাদের ভুল বোঝাচ্ছে, তাতে গোটা দল একটা জেলার মধ্যে চলে আসছে।”

অন্যদিকে সৌমিত্রর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে পোস্ট করতে দেখা গেল রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়কেও। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “বিরোধী নেতাকে বলব… যার নেতৃত্বে এবং যাকে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চেয়ে বাংলার মানুষ ২১৩ টি আসনে তাঁর প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন সেই মুখ্যমন্ত্রীকে অযথা আক্রমণ না করে সাধারণ মানুষের দুর্দশা মুক্তির জন্য পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যহ্রাস করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

প্রসঙ্গত, বঙ্গ বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত হেভিওয়েট দের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে বিরোধী দলনেতার প্ৰতি এভাবে একই দিনে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন সেই দলেরই দুই নেতা, এই ঘটনায় গেরুয়া শিবিরে অস্বস্তি বাড়তে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close