রাজ্যরাজনীতি

‘মমতা ব্যানার্জি ঝাঁসির রাণী’, তৃণমূলে যোগ দিয়ে বললেন সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: আবহাওয়া দপ্তরের খবর বলছে শীতের শুরুতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পারদ নেমে গেছে অনেকটাই। কিন্তু বাংলার রাজনীতির দিকে চোখ রাখলে তা বোঝার উপায় নেই। একুশের বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক বাদানুবাদে ততই উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাংলার পরিস্থিতিতে। প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দানকে নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই এবার বিজেপির ‘ঘরের লোক’ও চলে এলেন শাসকদলে।

জানা গেছে, বিজেপির প্রভাবশালী নেতা সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা মন্ডল খাঁ এদিন যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। শুনতে আশ্চর্য হলেও একুশের নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতির মঞ্চে যে এখনো অনেক রঙ্গই বাকি আছে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। ঘাসফুলে যোগ দিয়ে এদিন সুজাতা দেবী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের প্রতিমূর্তি, তিনি তাঁর সেনানী। শুভেন্দু ধান্দাবাজ, তাঁকে নেতা বলে মানি না।”

সোমবার বেলা পৌনে একটা নাগাদ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষের সঙ্গে তৃণমূল ভবনে আসেন সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা মন্ডল খাঁ। এর কিছুক্ষণ পরে দেখা যায় কুণাল ঘোষ এবং অপর তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় ঘাসফুলের পতাকা তুলে দিচ্ছেন সুজাতা দেবীর হাতে।

বস্তুত, উনিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিষ্ণুপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন সৌমিত্র খাঁ। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় আদালতের নির্দেশে বাঁকুড়া জেলাতেই প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল সৌমিত্র খাঁর। স্বামীর অনুপস্থিতিতে বাঁকুড়ায় সে সময় প্রচারের ভার একার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা মন্ডল খাঁ। রাজনীতির ময়দানে তখন থেকেই তাঁর পরিচিতি বাড়ে।

শোনা যায়, লোকসভা নির্বাচনে সাফল্যের পরে থেকেই নাকি সুজাতা দেবীর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়।এমনকি তিনি বিজেপির মহিলা মোর্চার সভাপতি হতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে অমিত শাহের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, দলে পরিবারতন্ত্র আনা যাবে না। এদিন সুজাতা বলেন, “তৃণমূলে যে সব লোকেরা দুর্নীতিগ্রস্ত, বিজেপিতে গেলে তাঁরা কী করে শুদ্ধ হয়ে যাবেন? আমাদের মত যাঁরা পরিশ্রম করে, রক্ত দেয়, দলের জন্য ত্যাগ করে তাদের জায়গা দেয় না। অন্য দলের থেকে লোক ভাঙিয়ে এনে অযোগ্য লোকেদের জায়গা দেয়।”

যে দলের বিরুদ্ধে এতদিনের লড়াই, কেন সেখানেই ফিরলেন? সুজাতা বলেছেন, বিজেপিতে তাঁর সম্মান, মর্যাদা হানি হচ্ছিল, মর্যাদা প্রতি মুহূর্তে ক্ষুণ্ণ হলে সেখানে থাকা যায় না। প্রিয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয় দাদা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে তৈরি করে নেবেন, আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

যদিও সুজাতা দেবী কতটা কার্যকরী হবেন তা এখনও পরীক্ষনীয়। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর গেরুয়া অভিষেকের মাঝে সৌমিত্র খাঁর স্ত্রীর শাসকদলে যোগ দানের ঘটনা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close