দেশ

এবার গরুর মাংস বিক্রির আগে উল্লেখ করতে হবে তার ধরণও, নতুন আইন আসছে দিল্লিতে

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: সৃষ্টির আদি কাল থেকেই পশু মাংস খেয়ে আসছে মানুষ। সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে খাওয়ার পদ্ধতিতে খানিক বদল এসেছে মাত্র, কিন্তু মূল বিষয়টা আজও রয়ে গেছে একই রকম। এই পশু মাংস খাওয়ার দৈনন্দিন রেওয়াজেই এবার ঢুকে পড়ল ধর্মের নানা বিধিনিষেধ।

হালালের মাংস খাওয়া হিন্দু এবং শিখ ধর্ম বিরোধী, এমন দাবি জানিয়ে এবার দিল্লিতে জারি হতে চলেছে নতুন নির্দেশিকা। জানা গেছে বিভিন্ন হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট গুলিতে এবার থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে পরিবেশিত মাংসের ধরণ উল্লেখ করে দিতে হবে, এই মর্মে একটি প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে দক্ষিণ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে (SDMC)। বিজেপি শাসিত ওই কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলিতে এই নতুন নির্দেশিকা জারি করার কথা বলেছেন।

সূত্রের খবরে জানা গেছে, কর্পোরেশনের এই নির্দেশিকা এলাকার কাচা মাংস বিক্রেতাদের ক্ষেত্রেও প্রযুক্ত হবে। অর্থাৎ, শুধু মাত্র হোটেল রেস্টুরেন্টেই নয়, মাংসের দোকানেও এবার থেকে হালাল বা ঝটকা পদ্ধতির নাম উল্লেখ করে দিতে হবে। প্রাথমিক ভাবে এই নতুন আইনের প্রস্তাবটি বিজেপি শাসিত কর্পোরেশনে পাশ হয়েছে। এরপর তা সংসদীয় কক্ষে উত্থাপন করা হবে এবং তারপরই পরিণত হবে আইনে।

এই নির্দেশিকা পত্রে বলা হয়েছে, “দক্ষিণ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের আওতায় বর্তমানে রয়েছে ১০০০টি রেস্টুরেন্ট। এদের ৯০% জায়গাতেই মাংস বিক্রি করা হয়। কিন্তু তা হালাল না ঝটকা সেটা উল্লেখ করা থাকে না। মাংসের দোকান গুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাই এই নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইসলাম ধর্মে হালাল পদ্ধতিতে পাওয়া মাংস খাওয়ার রীতি প্রচলিত আছে। কিন্তু হিন্দু কিংবা শিখ ধর্মে স্বীকৃতি পেয়েছে ‘ঝটকা’ পদ্ধতি। হালাল অনুযায়ী পশু হত্যায় একটি বিশেষ পদ্ধতি মেনে চলা হয়। এক্ষেত্রে পশুর ঘাড়ের কাছের একটি শিরা, করোটিড আর্টারি এবং শ্বাসনালী কেটে তাকে হত্যা করা হয়। ইসলামিক ধর্মীয় নির্দেশিকায় বলা রয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না পশুর দেহের সমস্ত রক্ত বেরিয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন পশু জীবিত থাকে। এই পদ্ধতি হিন্দু কিংবা শিখ ধর্মে স্বীকৃত নয়। ঝটকা অর্থাৎ এক ঝটকায় তৎক্ষণাৎ পশুর প্রাণ নিয়ে নেওয়াই স্বীকৃত ওই দুই ধর্মে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close