মহানগর

মিমি-নুসরাতকে নিয়ে মন্তব্য করে দলের মধ্যে চাপে মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো, হারালেন নিরাপত্তা

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো(Srikanta Mahata)। চটিয়ে ফেলেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। ধাপে ধাপে প্রকাশ পাচ্ছে দলের রোষও। একজন দেহরক্ষী বাদে সমস্ত পুলিশী নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে তাঁর।

একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিলো সামাজিক মাধ্যমে। যেখানে দেখা যায় গাছতলায় চেয়ারে বসে আছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এই তৃণমূল নেতা। সেখানেই কর্মীদের উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্য ভাইরাল হতেই শোরগোল শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। শ্রীকান্তকে (Srikanta Mahata) বলতে শোনা যায়, “দেবাদিদেব মহাদেব, জুন মালিয়া, নুসরত-মুসরত, মিমি-ঝিমি, সন্ধ্যা রায়, সায়নী-সায়ন্তিকা, নেপাল সিং-সন্দীপ সিং-উত্তরা সিং যাঁরা লুটেপুটে খাচ্ছে, তাঁরা যদি সম্পদ হয়, তা হলে তো আর পার্টি করা যাবে না। লোকে বলছে সবাই চোর।”

এই শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান তৃণমূল নেতৃত্ব। শ্রীকান্তের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তোপ দাগতে থাকেন বিরোধীরা। স্বভাবতই ক্ষুব্ধ হন তৃণমূল নেতৃত্ব। শ্রীকান্ত বাবু পরে এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু দল যে ক্ষমা করতে রাজি নয়, তা স্পষ্ট হচ্ছে। দলের নীচু তলার কয়েকজন এই মন্তব্যে খুশি হলেও, ‘দিদি’ বেজায় চটেছেন শ্রীকান্তের (Srikanta Mahata) ওপর। এমনটাই সূত্রের খবর। জানা গেছে, শ্রীকান্তের নিরাপত্তায় থাকা সমস্ত পুলিশকে লাইনে ফিরতে বলা হয়েছে। এসকর্ট গাড়িও তুলে নেওয়া হয়েছে। একজন মাত্র দেহরক্ষী থাকবেন শ্রীকান্তের সঙ্গে।

আরও পড়ুন:ববি দেওয়ালের গান শুনে প্রেম, পঞ্চান্ন বছর বয়সী পাত্রের সাথে বিয়ে আঠারোর যুবতীর

যদিও এটা মানতে রাজি নন শ্রীকান্ত(Srikanta Mahata) বাবু। তাঁর কথায়, ‘কলকাতায় এলে আমি একজনকেই নিয়ে আসি। বাকিদের জেলায় রেখে আসি। নিরাপত্তা কমানোর ব্যাপারে কিছু জানা নেই।” যদিও তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশই বলছে, তাঁদের লাইনে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের অভ্যন্তরেও শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই মমতা ও অভিষেক শ্রীকান্তের ওপর প্রসন্ন ছিলেন না বলেই জানা যাচ্ছে। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুরে দলের ভরাডুবিই এর কারণ। এমনটাই জানাচ্ছেন দলের এক শীর্ষ নেতা।

পরে তাঁকে মন্ত্রী করে একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা চটেছেন, তাতে তাঁর মন্ত্রীত্বের মাথাতেও খাঁড়া ঝুলছে। জানা গেছে তৃণমূল সূত্রে।

আরও পড়ুন:জুন-মিমি-নুসরতরা দলকে লুটেপুটে খাচ্ছে’, বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের মন্ত্রীর

শ্রীকান্ত বলেন, “চোরেদের কথা পার্টি শুনবে আর আমরা চুপ করে থাকবো? এরকম হলে পথ দেখতে হবে, কী তাইতো?” আর ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রীর এই ‘পথ দেখা’র মন্তব্যে জলঘোলা হয়েছে আরো। এবার দেখার বুধবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে শ্রীকান্ত বাবুকে ঠিক কোন পথ দেখানো হয়! সেইদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

সবার খবর সঠিক খবর পড়তে চোখ রাখুন মহানগর বার্তায়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also
Close
Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close