বিনোদন

সবার আগে দেখতে পেয়েছিলেন সুশান্তের মৃতদেহ, সেই ব্যক্তিকে এবার হাতেনাতে ধরলো ইডি

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক: সুশান্তের দেহ প্রথম দেখার সময়ে সিদ্ধার্থ পিঠানির সঙ্গে ছিলেন কুক দীপেশ-ও। সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি অভিনেতার বাড়ির রাঁধুনি দীপেশকে , পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ইডির সমন পেয়ে আর নিজেকে লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি দীপেশের। এতদিন ‘আন্দারগ্রাউন্ড’ থাকর পর অবশেষে ইডির দফতরে হাজির হয় অভিনেতার ফ্ল্যাটের কুক দীপেশ।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু তদন্তে ক্রমশ জটিলতা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন নতুন তথ্য সংগ্রহ করে চলেছে ইডি। তদন্তের শেষ সীমান্তে পৌঁছতে সুশান্তের সংস্পর্শে আসা নানা মানুষজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি! তাই এবার মুম্বইয়ে ইডি-র দফতরে পৌঁছতে হলো সুশান্তের রাঁধুনি দীপেশ সাওয়ান্ত,যিনি এতদিন পলাতক ছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন সুশান্তের আরেক সহকারী রজত। জানা গেছে, সুশান্তের দেহ প্রথম দেখার সময়ে সিদ্ধার্থ পিঠানির সঙ্গে ছিলেন দীপেশ-ও।

দফতরে পৌঁছানোর পর যথারীতি শুরু হয় জেরা। প্রসঙ্গত,সিদ্ধার্থ পিঠানির ম্যারাথন জেরা করেছে ইডি।গত শুক্রবার, সোমবারের পর মঙ্গলবার এই নিয়ে তৃতীয়বার সিদ্ধার্থ ও সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার শ্রুতি মোদিকে জেরা করে ইডি।

সিদ্ধার্থ পিঠানি ও কুক দীপেশ জানান ১৪ জুন সকালে তাঁরাই নাকি প্রথম সুশান্তের মৃতদেহ সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলতে দেখেন! অথচ, অ্যাম্বুল্যান্স চালক অক্ষয় ভান্ডগর ,যিনি সুশান্তের মৃতদেহ তাঁর বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে কুপার হাসপাতালে নিয়ে যান,তার বক্তব্য অনুযায়ী, সুশান্তের ঘরে কোনও সিলিং ফ্যান-ই ছিল না! তিনি আরো বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের চালক হওয়ায় আত্মহত্যায় মৃত্যু হয়েছে এমন বহু দেহ দেখেছেন তিনি! তাই সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর ধারনা, এটা একেবারেই আত্মহত্যা নয়, খুন হয়েছে সুশান্ত।

অ্যাম্বুল্যান্স চালক অক্ষয় ভান্ডগর জানান, ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছানর আগে পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিলেন আর সুশান্তের দেহ সাদা কাপড়ে মোড়া হয়ে গিয়েছিল। । অ্যাম্বুল্যান্সের কর্মীরা অভিনেতার ঘর থেকে মৃতদেহ স্ট্রেচারে করে নামিয়ে গাড়িতে তোলেন। তবে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সুশান্ত অনুরাগীরা প্রশ্ন তুলেছেন। এবিষয়ে তাঁদের বক্তব্য , ” আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করতে পারেন। এক্ষেত্রে তা হয়নি। কাজেই, মুম্বই পুলিশ যে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেনি, সেটা কে হলফ করে বলতে পারে?”

অ্যাম্বুল্যান্স চালক অক্ষয় ভান্ডগর ইডি কে আরো জানিয়েছেন, সুশান্ত সিং রাজপুতের গোটা দেহ হলুদ হয়ে গিয়েছিল। তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, সাধারণত কেউ আত্মহত্যা করলে, শরীর হলদে হয় না। যদিও বা হয়, আগাগোড়া দেহ কখনওই হলদে হয় না। এমনকি সুশান্তের হাঁটু দুটোও মোড়া ছিল। তাঁর ভাষায়, ” আত্মরক্ষার জন্য যখন কেউ হাত-পা চালান, লাথি মারার চেষ্টা করেন, তখন তাঁর পা যেভাবে মোড়া থাকে, সেভাবে মোড়া ছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের পা।” তিনি ইডির সামনে এমনকি প্রশ্ন তোলেন, ” যে মানুষ সিলিং থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন, তাঁর পা মোড়া থাকবে কেন? কীভাবেই বা তা সম্ভব ?”

অ্যাম্বুল্যান্স চালক অক্ষয় ভান্ডগরের কথায় জানা যায়, সুশান্তের পায়ের নানা জায়গা থেঁতলে গিয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, ” গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলে গোটা শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার দাগ থাকে। সুশান্তের ক্ষেত্রে তেমনটা ছিল না। শুধুমাত্র পায়ের নানা স্থানে দগদগে ক্ষত ছিল! এ’টা কীভাবে সম্ভব ? দেখে মনে হচ্ছিল কেউ খুব জোরে পায়ে আঘাত করেছে।” তিনি আরও বলেন, সুশান্তের গলায় নাকি একটা ইংরেজি হরফ ‘0’-এর মত দাগ ছিল। কিন্তু কেউ যদি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন, তবে গোটা গলাজুড়ে দাগ থাকে।এমনটাই হতে পারে হয়তো প্রথমে সুশান্তের গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়েছে , তারপর হয়তো তাকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।এমনকি এটা যদি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা হয় তাহলে মুখ দিয়ে গেঁজলা বের হবে, সুশান্তের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close