রাজ্যরাজনীতি

“২১ বছর তৃণমূল করতাম ভাবলে লজ্জা করে”, বিজেপির সভা থেকে বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: একুশের বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক বাদানুবাদে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার পরিস্থিতি। একদিকে যেমন লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যকে হাতিয়ার করে মসনদ দখলের লড়াইয়ে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি, অন্যদিকে তেমনই ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূলও। এমতাবস্থায় দলবদলের কালো মেঘে কার্যত বিপর্যস্ত শাসক শিবির।

সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর নতুন দলে গিয়েই পুরোনো দলকে তুলোধুনো করলেন তিনি। এদিন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা কর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে। সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেস দলটাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী সংবর্ধনা সভায় বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস দলটা কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। লজ্জা করে ২১ বছর এই পার্টিটা করেছি বলে। হ্যাঁ, এখন আমার সত্যিই এটা ভেবে লজ্জা করে।” এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দু অধিকারী এদিন আরও বলেন, ”কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকতে হবে। না হলে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল হবে না। দেশের সব রাজ্যে বিজেপির সরকার নেই। তবে একমাত্র বাংলা ছাড়া অন্য সব রাজ্য কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধা মানুষকে দেয়। একমাত্র বাংলাতেই রাজ্য সরকারের জন্য ৭৩ লাখ চাষী কেন্দ্রের দেওয়া সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। বাংলাকে মোদীজির হাতে তুলে দিতে হবে। একমাত্র বিদেপিই পারে সোনার বাংলা গড়তে। ৩৪ বছর ধরে সিপিএম যেভাবে ভুল পথে রাজ্যকে চালিয়েছে, তৃণমূল আসার পরও একই চটিতে পা গলিয়েছে। রাজ্যের পরিস্থিতি যা ছিল তাই আছে।”

এদিন শুভেন্দু অধিকারী যখন প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে এভাবে একের পর এক বাক্য বাণে বিদ্ধ করছেন শাসক শিবিরকে, তখন পাশেই হাসি মুখে উপস্থিত ছিলেন মুকুল রায়, তথাগত রায় সহ বিজেপির অন্যান্য নেতৃবর্গ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একুশের মহারণের আগে রাজ্য রাজনীতিতে এত বড় পট পরিবর্তনে এখন তোলপাড় বাংলা। সেই আবহেই আরো একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে আক্রমণের সুযোগকে কাজে লাগালেন শুভেন্দু অধিকারী।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close