fff
টেকনলজি

TATA Motors যেন অশ্বরথের ঘোড়া! Electric Car বাজারে সব রেকর্ড ভাঙলো এই কোম্পানি

ইলেকট্রিক গাড়ির (Electric Car) দুনিয়ায় বড়সড় উত্থান টাটা মোটরসের (TATA Motors)। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমশই চাহিদা বাড়ছে তাদের টাটা নেক্সন ইভি (TATA NEXON EV) ও টিগর ইভি মডেল দুটোর। দেখা যাচ্ছে দেশের মানুষ ইলেকট্রিক গাড়ি (Electric Car) কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভরসা করছে টাটাদের। ফলে এই মুহূর্তে ভারতে ব্যক্তিগত চার চাকা ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারের ৮০% টাটা মোটরসের দখলে। সদ্য শেষ হওয়া জুলাই মাসে টাটাদের ইলেকট্রিক গাড়ির বিক্রি বেড়েছে ৫৬৬%!

ভুল দেখেননি, একদমই ঠিক এই পরিসংখ্যান। ২০২১ এর জুলাইয়ে টাটা মোটরস ইলেকট্রিক গাড়ির (Electric Car) বিক্রি করেছিল মাত্র ৬০৪ টি। কিন্তু এবারের জুলাইয়ে তাদের ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,০২২ টি! এমনকি মারুতি সুজুকি, হোন্ডাই, মাহিন্দ্রার ইলেকট্রিক গাড়ির (Electric Car) চাহিদাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে টাটা মোটরস। গাড়ি বিশেষজ্ঞদের ধারণা টাটা নেক্সন ইভি ও টিগর ইভি মডেল দুটোর ফিচার্স গাড়িপ্রেমীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে। তাছাড়া টাটাদের গাড়ির ব্যাটারির লংজিভিটি এবং সার্ভিসিংয়ের ফেসিলিটি গাড়ি প্রেমীদের আকর্ষণের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুধু যে ব্যক্তিগত গাড়ির বাজারে টাটারা তাদের দাপট দেখাচ্ছে তা নয়, যাত্রীবাহী ইলেকট্রিক গাড়ির (Electric Car) বাজারেও টাটা মোটরসের জয়যাত্রা অব্যাহত। অশোক লেল্যান্ডকে পিছনে ফেলে দেশের ইলেকট্রিক বাসের বাজারে এখন টাটা মোটরসের দাপট সবচেয়ে বেশি। সদ্য সমাপ্ত জুলাইয়ে তারা যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি করেছে ৪৭,৫০৫ টি। গত বছরের জুলাইয়ে এই বিভাগে টাটা মোটরসের বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩০,১৮৫। ফলে এবারে বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৭%। যা অভাবনীয় তো বটেই।

দেশের বাজারের পাশাপাশি টাটা মোটরসের গাড়ির বিদেশেও ভালো চাহিদা আছে। ফলে জুলাইয়ে দেশের বাজার ও রপ্তানি মিলিয়ে যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক গাড়ি সেকশনে টাটা মোটরসের মোট বিক্রির পরিমাণ ৮১,৭৯০ ইউনিট। গতবছর জুলাইয়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫৪,১১৯ টি। ফলে গত বছরের নিরিখে শুধু জুলাইয়ে টাটা মোটরসের মোট গাড়ি বিক্রি বেড়েছে ৫১%। এই বিপুল বৃদ্ধি হার দেশের আর কোনও গাড়ি সংস্থার নেই।

তবে বাণিজ্যিক ও যাত্রীবাহী গাড়ির অন্যান্য সেগমেন্টে মারুতি সুজুকি, হোন্ডাই মাহিন্দ্রা, অশোক লেল্যান্ডের মতো সংস্থাগুলির সঙ্গে টাটাদের প্রতিযোগিতা থাকলেও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে তারা যে কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছে তা কয়েকটা পরিসংখ্যানে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। চলতি বছরের জুন মাসে টাটা মোটরসের বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ৩,৫০৭ টি। চলতি অর্থ বর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক অর্থাৎ এপ্রিল-মে-জুন এই তিন মাস ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের প্রথম মাস, অর্থাৎ জুলাইকে যোগ করলে টাটাদের মোট বৈদ্যুতিন গাড়ির বিক্রি ১৩ হাজার ইউনিটের‌ও বেশি। ভারতের বর্তমান বৈদ্যুতিক গাড়ি পরিষেবার পরিকাঠামোর অনুপাতে এই সংখ্যা যে অভাবনীয় তা বলাই বাহুল্য।

কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে দেশে পেট্রল ও ডিজেল চালিত গাড়ির ব্যবহার ধাপে ধাপে কমানো হবে। তার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিন গাড়ি (Electric Car) তৈরি ও বিক্রিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ তাতে একদিক থেকে যেমন পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমবে, তেমনই বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির জন্য প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ হয়ে যায় সেটাও বাঁচবে। তাতে ভারতের বাণিজ্যিক ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। সরকারের এই ঘোষিত লক্ষ্যের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা বৈদ্যুতিন গাড়ি তৈরি করা শুরু করেছে। কিন্তু বৈদ্যুতিন গাড়ি পরিষেবার প্রাথমিক পরিকাঠামো নিয়ে সমস্যার কারণে ক্রেতারা এখনও ততটাও এই দিকে আকর্ষিত হচ্ছেন না।

বৈদ্যুতিন গাড়ির কিনলে সমস্যা কী?

পেট্রল বা ডিজেল চালিত গাড়ি নিয়ে আপনি রাস্তায় বের হলে তেল ফুরিয়ে গেলে পেট্রল পাম্প থেকে তেল ভরে নিয়ে আবার চলতে পারবেন। এক্ষেত্রে বিশেষ সমস্যা হয় না। কারণ দেশের প্রায় সর্বত্রই কয়েক কিলোমিটার অন্তর কোন‌ও না কোন‌ও সংস্থার পেট্রল পাম্প আছে। তেমনই বৈদ্যুতিন গাড়ি (Electric Car) নিয়ে রাস্তায় বের হলে চার্জ ফুরিয়ে যেতে পারে। তখন ব্যাটারিতে চার্জ দেওয়া দরকার। যদিও গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করা শুরু করলেও চার্জিং স্টেশন সেভাবে দেশে গড়ে ওঠেনি।

এই যেমন কলকাতায়, সল্টলেকে নিয়ে সারা কলকাতায় হাতে গোনা খান দশেক চার্জিং স্টেশন পেলেও পেতে পারেন। তাও একটার সঙ্গে আরেকটার দূরত্ব এতই যে মাঝ রাস্তায় গাড়ির চার্জ ফুরিয়ে গেলে আপনার জরুরী কাজ পণ্ড হয়ে যেতে পারে। এখানেই ধীরে ধীরে বাকিদের বাজিমাত করা শুরু করেছে টাটাররা।

ইতিমধ্যেই টাটা মোটরস বৈদ্যুতিক গাড়ি (Electric Car) তৈরির পাশাপাশি দেশজুড়ে চার্জিং স্টেশন তৈরির কাজ শুরু করেছে। তারা ঘোষণা করেছে কয়েক বছরের মধ্যেই পেট্রল পাম্পের মতই নির্দিষ্ট দূরত্বে তাদের চার্জিং স্টেশন বসে যাবে। তাছাড়া চার্জিং স্টেশনে গিয়ে গাড়িতে চার্জ দিতে অনেকটাই সময় লাগে। তার জন্য ব্যাটারি বদলে দেওয়ার বিষয়টিও ভাবনা-চিন্তায় রেখেছে টাটা মোটরস। এই নিয়ে তারা কাজও শুরু করেছে।

ব্যাটারি বদল বিষয়টা কী?

পেট্রল বা ডিজেল চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে যেমন ট্যাঙ্কের মধ্যে জ্বালানি ভরা হয়, তেমনই ইলেকট্রিক গাড়ি (Electric Car) ব্যাটারির দ্বারা চলে। এবার রাস্তায় গাড়ির ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে চার্জিং স্টেশনে গিয়ে আপনি তাতে চার্জ দিতে পারেন। কিন্তু তার জন্য একটু বেশি সময় লেগে যায়। তাই টাটাদের তাদের পরিকল্পনা হল গাড়ির ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে চার্জিং স্টেশনে গিয়ে আপনি সেটা বদলে নিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার চার্জ ফুরিয়ে যাওয়া ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনকে দেবেন এবং সেখান থেকে একটি চার্জড ব্যাটারি আপনার গাড়িতে লাগিয়ে নেবেন। এরপর আবার নিজের গন্তব্যের দিকে ছুটে যাবেন।

টাটা মোটরস ঠিক করেছে চার্জিং স্টেশনে গিয়ে সরাসরি ব্যাটারিতে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা যেমন থাকবে তার পাশাপাশি থাকবে ব্যাটারি বদলের সুবিধা। সেসঙ্গে তারা দ্রুতগতিতে চার্জিং স্টেশনের পরিকাঠামো গড়ে তুলছে দেশে। গাড়ি বিশেষজ্ঞদের মতে টাটা মোটরসের এই ঘোষিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই একটা বড় অংশের গ্রাহক তাদের ইলেকট্রিক গাড়ির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠছে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please Disable your ADBlocker!