অন্যান্য

মহামারিতে শিক্ষক দিবস: কলম ধরলেন দুই শিক্ষিকা

স্কুল-কলেজ বন্ধ। এবারের শিক্ষক দিবস তাই অন্যরকম। স্কুলে কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ উদযাপনের সুযোগ নেই। মন খারাপ! ছুটে চলে যাওয়ার উপায় নেই, তাই উদযাপনে স্মৃতি টুকুই সাঁকো। এই নিয়েই কলম ধরলেন দুই শিক্ষিকা। স্মৃতির পুটলি খুলে তাঁদের মন খারাপ উজাড় করে দিলেন।

 

শুক্লা রায়( প্রাক্তন প্রধানা শিক্ষিকা বেথুন কলেজিয়েট স্কুল)

শুক্লা রায়

আজ এক অন্যরকমভাবে শিক্ষক দিবস পালন এর অভিজ্ঞতার সামিল হব আমরা। অতিমারীর প্রকোপে সেচ্ছাবন্দী হয়ে আছি শিক্ষক শিক্ষার্থী সব্বাই। পৃথিবী আর ভার বইতে পারছেনা, প্রকৃতি বিনষ্ট করে চলেছি আমরা, বিজ্ঞানের জয়যাত্রা অনেকক্ষেত্রে আমাদের জীবনের জয়যাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে চাইছে।
কিন্তু আমরা ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি তাই আমাদের তো থেমে থাকলে চলবেনা সব অশুভকে দূর করার লক্ষ্যে অবিচল থেকে এগিয়ে যেতে হবে।যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি – এই মন্ত্রে জীবনের প্রতিটি বাঁক থেকে নতুন নতুন শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলতে হবে। এগিয়ে থাকাই যে জীবন।
এবারের শিক্ষক দিবসে – নতুন নতুন পদক্ষেপ তাই! ছেলে মেয়েরা অনলাইনে রাশি রাশি ভালবাসা, শ্রদ্ধার বার্তা পাঠাচ্ছে, কেউ বা ভিডিও করে গান,নাচ,আবৃত্তি পাঠাচ্ছে,অনেকে আবার একসাথে গুগল মিটে এসে সুন্দর সুন্দর অনুষ্ঠান করছে।
আমি প্রাচীনা দিদিমনি তাই একসাথে সব অনুষ্ঠানে ঢুকতে বেশ হিমসিম খেয়ে যাচ্ছি।ওদিকে আবার ল্যান্ড ফোন, মুঠোফোন তারস্বরে চিল চিৎকার করে পাড়া মাথায় করছে।
আবার সকাল থেকে টুকটুক করে কেন জানিনা ময়দা মেখে ফেলছি,ওল চিংড়ি, পনির,মিষ্টি এসব বানিয়ে ফেলছি।
বুকের ভিতরটা হু হু করছে, আর একটা গান মনের ভিতর মাথা খুঁড়ে মরছে – দিবস রজনী আমি যেন কার…….
আসলে অবসর গ্রহণের পরে এইদিনে আমার বাড়ীতে যে চাঁদের হাট বসে যেতো, আর যতকিছুই বানিয়ে রাখিনা কেনো অন্তরে অতৃপ্তি রয়ে যেতো যেমনটি যত্ন করে খাওয়াবো ভেবেছিলেম
সে বুঝি হল না।
প্রণাম করার পরে মাথায় হাত রেখে তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনায় যে আত্মতৃপ্তি ঘটতো আমাদের উভয়পক্ষের তা আর পাচ্ছি কই!
তাই এবারের এই অচেনা শিক্ষক দিবসে বুকে আমার অতৃপ্তির হাহাকার বাজছে বড় করুণ সুরে!

 

লহরী মুখার্জি, অধ্যাপিকা( মহারাজা মনীন্দ্র চন্দ্র কলেজ সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগ)

লহরী মুখার্জি: নতুন মড়কে শিক্ষক দিবস, নিউ নরমাল ইস being virtual

আগে যখন আমি ছাত্রজীবন কাটিয়েছি তখন ৫ ই সেপ্টেম্বর এর প্রায় ২সপ্তাহ আগে থেকেই স্কুল এ বিশাল তোড়জোড় চলতো কত কিছু হবে নাচ গান নাটক সব। গুরুদের প্রতি আমাদের সন্মান জানানোর একটা ছোট্ট প্রচেষ্টা। নিজে যখন থেকে শিক্ষিকা হলাম ২০১২ সাল থেকে মহারাজা মনিন্দ্র চন্দ্র কলেজের সাংবাদিকতা ও গণ জ্ঞাপন বিভাগে ২০১৩ সাল থেকেই আমাদের কে আমাদের ছাত্র ছাত্রী রা খুব সুন্দর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আমাদের প্রতি তাদের ভালোবাসা সন্মান সব টুকুই জানিয়েছে।আর আমরাও ওদের অনুষ্ঠান দেখার জন্য খুব উৎসুক হয়ে বসে থাকি। এই তো আগের বছরও আমাদের স্নেহের ছাত্র ছাত্রী রা কি সুন্দর নাচে গানে কবিতায় আমাদের ভরিয়ে দিল কতটা সময় ধরে আমাদেরকে বিনোদনে মাতিয়ে দিলো। আর এই বছর ২০২০ সাল হঠাৎ করেই এক অভিশপ্ত করোনা নামক ভাইরাস যেমন গোটা বিশ্ব কে পুরো স্তব্দ করে দিলো আক্রান্ত আর মৃত্যু মিছিলে কোথাও একটা সবার জীবনেই একটা সম্পূর্ণ বদল এনে দিলো। এবারের শিক্ষক দিবস পালন টা খুব আলাদা এবার আর সেজে গুজে কলেজ যাওয়ার তাড়া নেই যেমন সেই ১০.৩০ টায় ক্লাস নিতে যাওয়ার তাড়া নেই ২০ শে মার্চ এর পর থেকে ঠিক তেমন ই আমাদের আর কলেজ গিয়ে তাদের সাথে সময় কাটানোর উপায় নেই।তবে না আমাদের প্রিয় ছাত্র ছাত্রী রা স্যার ম্যাম দের জন্যে virtual ভাবে পালন করবে ঠিক করেছে শিক্ষক দিবস। আমরা আজ এমন একটা সময় তে দাড়িয়ে আছি যেখানে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাটাই আগামীতে ভার্টুয়াল হয়ে যাবে তাই তাদের এই প্রচেষ্টা কে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে সাধুবাদ জানাই। শ্রদ্ধা নিবেদন করার এই new normal কে ওরা বেছে নিয়েছে আশা রাখি খুব ভালো হবে। আনন্দ হবে স্ক্রীন টু স্ক্রীন পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে পারবেনা কিন্তু আমরাও অনেক আশীর্বাদ করবো যাতে তারা এই নতুন পন্থা কে ভালো ভাবে গ্রহন করে নেয়। কলেজ এ বসে ক্লাস টাও আজ যেমন নেই সেরকমই এবছর গান গল্প অনাবিল আড্ডা টাও থাকলো না। পাল্টে যাচ্ছে সময় আর এই দিন বদলের আরেক নাম ই তো জীবন। শিক্ষা ও তার কান্ডারী সবাই প্রস্তুত এ এক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা।

 

 

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close