রাজনীতি

“কালো টাকার উৎস বন্ধ হচ্ছে, তাই এত বিরোধীতা”, কৃষিবিল নিয়ে বিস্ফোরক মোদী

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্কঃ এবার কৃষি বিল নিয়ে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বললেন, নতুন কৃষি বিল বিরোধীদের বেআইনি রোজগারের পথ বন্ধ করে দিয়েছে, তাই এত বিরোধিতা করছেন তাঁরা। এদিন প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, কৃষি বিলের বিরোধিতা করে আসলে কৃষক ভাইদেরই অপমান করা হচ্ছে।

বস্তুত , চলতি মাসেই কিছুদিন আগে কৃষি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন বিল রাজ্যসভায় পাশ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই সমগ্র দেশ জুড়ে এর বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একাধিক জায়গায় মিছিল, অবস্থান বিক্ষোভ, এমনকি ধর্মঘটও ডাকা হয় কৃষকদের পক্ষ থেকে। এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যায় অকালি দল। শুধু তাই নয়, বিজেপির একাধিক নেতাও এই বিলের প্রতিবাদে ইস্তফা দিয়েছেন।নতুন কৃষি আইন আদতে কৃষকদের মঙ্গলের পরিপন্থী ও ক্ষমতাবানদের আয় বৃদ্ধির নতুন উপায় বলে বিরোধিতায় সরব হয়েছে প্রায় সমস্ত বিরোধী দলই।

দেশজুড়ে এই বিক্ষোভের পরিস্থিতির মাঝেই বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ করলেন মোদী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, কৃষি বিলের উপকারিতা সম্পর্কে নিজেদের স্বার্থে কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে বিপথে চালনা করছে বিরোধী দলগুলি। এই বিরোধিতা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং নিন্দনীয়। মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উত্তরাখণ্ডে ‘নমামি গঙ্গা’ মিশনের অধীন কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে মোদি বলেন, “সংসদের সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে কৃষক, শ্রমিক, এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের জন্য বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে। এই সংস্কারগুলি দেশের কৃষক, শ্রমিক, যুবসমাজ এবং মহিলাদের শক্তিশালী করবে। কিন্তু কিছু মানুষ যে শুধু বিরোধিতা করার জন্যই এই আইনের বিরোধিতা করছে, সেটা গোটা দেশ দেখতে পাচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রীর আরো দাবি, নতুন কৃষি আইন বলবত হওয়ার পরও আগের মতোই ‘ন্যূনতম সহায়ক মুল্য দিয়ে ফসল কিনবে সরকার। বরং এর ফলে কৃষকদের কাছে আরও বিকল্প বাড়ল। নিজেদের উৎপাদিত ফসল ইচ্ছে মতো জায়গায় বিক্রির স্বাধীনতা পেলেন কৃষকরা।

পাশাপাশি বিরোধীদের কটাক্ষ করে মোদি বলেছেন, “কিছু মানুষ এই আইনের বিরোধিতা করছেন। কারণ, তাঁদের কালো টাকা রোজগারের আরও একটা উৎস শেষ হয়ে গেল।”
প্রসঙ্গত, এর মাঝেই বিজেপি শাসিত হরিয়ানা কিন্তু এই আইন সম্বন্ধে নিশ্চিত নয়।হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার মঙ্গলবার জানিয়েছেন, “আমরা আগে নিশ্চিত করব, আমাদের রাজ্যের কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত ভুট্টা এবং বাজরা সঠিক দামে বিক্রি করতে পারছেন। যতক্ষণ না আমাদের রাজ্যের কৃষকদের সব ভুট্টা এবং বাজরা বিক্রি হচ্ছে, ততক্ষণ অন্য রাজ্যের কৃষকরা যাতে হরিয়ানায় ফসল না বিক্রি করতে পারে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব। আমরা অন্য রাজ্যকে নিয়ে চিন্তিত নই, আমাদের নিজেদের কৃষকদের কথা আগে ভাবতে হবে।”

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close