দেশরাজ্য

“যাঁরা বাংলার নিরাপত্তা নিয়ে বলেন, তাঁরা ইউপির দিকে তাকান”, যোগীকে তীব্র আক্রমণ মমতার

মহানগর বার্তা ওয়েবডেস্ক:হাথরাস গণধর্ষণ কান্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় শাসক দলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। বললেন, বাংলার আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে উত্তর প্রদেশের দিকে তাকানো উচিত।

 

এদিন হাথরাস গ্রামের উনিশ বছর বয়সী গণধর্ষিতা দলিত তরুণীর মৃত্যু হলে ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন অনেকেই। অভিযুক্তদের কড়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ছেয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। যোগী আদিত্যনাথ পরিচালিত উত্তর প্রদেশ সরকারের বিজেপি বিরুদ্ধে আক্রমণ হানে প্রায় সব বিরোধীরাই। মুখ্যমন্ত্রীর আজকের মন্তব্যও সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। যোগী সরকারকে তীব্র ব্যঙ্গ করে এদিন তিনি বলেছেন, “কিছু গুন্ডা গুন্ডামি করে বেড়াচ্ছে। বিএসএফ দিয়ে বিভিন্ন প্রান্তিক জায়গায় ঢুকে চমকাচ্ছে। কিন্তু এটা বিএসএফ-এর কাজ নয়।” সেইসঙ্গে তাঁর খোঁচা, “যাঁরা বাংলার আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলেন, তাঁরা একটু উত্তর প্রদেশের দিকে তাকান।”

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে দলিত কন্যাকে গণধর্ষণ ও পরে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখন উত্তাল সারা দেশ। টানা ১৫ দিন লড়াই করার পর মঙ্গলবার সকালে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই তরুণী। এরপরই দেহ ফেরত চেয়ে হাসপাতালের সামনে ধর্নায় বসে তরুণীর পরিবার। কিন্তু তার মৃতদেহ পরিবারের হাতে না দিয়ে রাতের অন্ধকারে দাহ করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে যোগীরা রাজ্যের পুলিসের বিরুদ্ধে। পরিবারের সম্মতি ছাড়াই জোর করে তার শেষকৃত্য করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের না জানিয়ে, মাঝরাতে জোর করে গ্রামে নিয়ে গিয়ে দায়সারা ভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে পুলিস। সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি পরিবারের কাউকে। উল্টে তাঁদের ওপর মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এই ঘটনা সামনে আসতেই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সারা দেশে। এই পরিস্থিতিতে আজ সকালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরই এই গণধর্ষণের তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বিঁধলেন যোগী তথা বিজেপি সরকারকে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close