দেশ

মেয়েরাও পারে! সুনামিতে দিন কাটিয়েও সাইকেল চালিয়ে গোল্ড মেডেল পেয়েছেন এই মহিলা

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: ২০০৪ সাল। উপকূল তছনছকারী সুনামির ঢেউ আছরে পড়েছিল ভারতের অন্দরমহলেও। সর্বগ্রাসী সেই জলোচ্ছ্বাসের মাঝে দিশাহারা হয়ে আন্দামানের এক ছোট্ট দ্বীপে তখন জলজ্যান্ত মৃত্যুর সঙ্গে প্রাণপণ লড়াই করে চলেছিল ৯ বছরের এক ছোট্ট মেয়ে। সম্বল শুধু অদম্য জেদ-“বাঁচবোই।”

বস্তুত মনের জোর আর অদম্য জেদ থাকলে যে সমস্ত প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে ভাগ্যদেবতা মুখ তুলে চান, তার অন্যতম দৃষ্টান্ত আন্দামানের ডেবোরা হেরল্ডের জীবন। ভারতের প্রথম মহিলা সাইক্লিস্ট হিসেবে চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের খেতাব জিতেছেন তিনি। দু চাকার সাইকেল চালিয়ে ইতিমধ্যে দু -দুটো গোল্ড মেডেল তাঁর পকেটে। আর বয়স মাত্র পঁচিশ।

সুনামির সেই বিভীষিকার পর কেটে গেছে প্রায় ষোলো বছর। কিন্তু সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে কাটানো সেই চার-পাঁচ দিনের স্মৃতি ফিকে হয় নি।সুনামি যেন এখনো মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্নের মতো হানা দেয় ডেবোরা হেরল্ডের স্মৃতিতে। তবে সেই লড়াইয়ের স্মৃতি দুর্বল নয়, বরং দিন দিন আরো শক্ত করে তাঁর মনের জোরকে। প্রেরণা জোগায় ভবিষ্যৎ সাফল্যের। সেই অতীত স্মৃতিতে ভর করেই ২০২১ সালে জাপানে অলিম্পিক জয়ের স্বপ্ন দেখেন ডেবোরা হেরল্ড।

শুধু মাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ডেবোরা হেরল্ডের সাফল্যে সারা বিশ্বের দরবারে মুখ উজ্জ্বল হয়েছে ভারতের।ভারতের প্রথম মেয়ে সাইক্লিস্ট হিসেবে র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের চার নম্বরে উঠে এসেছিলেন তিনি। হেরাল্ড ট্র্যাক এশিয়া কাপের ৫০০ মিটার ট্রায়ালে দু-দুটো গোল্ড মেডেল জিতেছেন তিনি। এছাড়া আছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের এক ছোট্ট দ্বীপ গ্রাম থেকে উঠে আসা ডেবোরা হেরল্ডের বর্তমান আস্তানা দিল্লি। ইন্দিরা গান্ধী স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভেলোড্রোমে ২০১১ সাল থেকে ট্রেনিং-এর সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি।

ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিন্তু সেই ঔজ্জ্বল্যের শিকড় গাঁথা আছে বিভীষিকাময় অতীতে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ সুনামিতে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছিল নিকোবরের কার আইল্যান্ড। সেই বিভীষিকার স্মৃতি রোমন্থন করে সংবাদমাধ্যমের কাছে ডেবোরার উক্তি, ‘‘তিন-চার দিন হবে হয়তো। গাছের ডালে বসেছিলাম। নীচে তাকালে দেখছিলাম সমুদ্র ফুঁসছে। আমি তো শেষ দিকে খিদের জ্বালায় গাছের পাতা, ছালও খেয়ে নিয়েছিলাম।” বলতে বলতে যেন অতীত আতঙ্কের আঁচ এসে লাগে তাঁর চোখে মুখে।

সমস্ত সাফল্যের মাঝেও যে অতীত ধূসর হয় না, পরোক্ষে সেই অতীতই এনে দেয় ভবিষ্যতের আরো আরো সাফল্যের মুকুট। ডেবোরা হেরল্ডের জীবনকাহিনী যেন সেই চিরন্তন শিক্ষাই দিয়ে চলে আপামর ভারতের মেয়েদের। আর সেই সঙ্গে দিয়ে চলে একটাই অমোঘ বার্তা, “হাল ছেড়ো না।”

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close