আম আদমি

সাফল্যের দৌড় পাঁশকুড়া টু নয়ডা! টুইন টাওয়ার ধ্বংসের গবেষক দলে বাংলার যুবক মৃণাল ভৌমিক

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ বিস্ফোরণের বিকট আওয়াজ। আর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে টুইন টাওয়ার(Twin Tower)। তাঁর সাক্ষী থাকছেন পাঁশকুড়ার ছেলে মৃণাল। নাহ্ এই টুইন টাওয়ার(Twin Tower) আমেরিকার নয়। ভারতের নয়ডার।

বছর ছাব্বিশের মৃণাল ভৌমিক মাদ্রাজ আইআইটি’তে গবেষণা করছেন। গবেষণার বিষয় ‘সিভিল আর্থকুয়েক’। ‘প্রাইম মিনিস্টার রিসার্চ ফেলোশীপ’-এ নির্বাচিত হয়েছেন মৃণাল। পাঁশকুড়ার চৈতন্যপুর-১ অঞ্চলের বাসিন্দা তিনি।

বিগত চার মাস ধরে মৃণাল নয়ডার টুইন টাওয়ারে(Twin Tower) গবেষণারত আইআইটি দলের সদস্য ছিলেন মৃণাল। এমন কাজের অংশ হয়ে খুশি তিনি।

নয়ডার ওই টুইন টাওয়ার(Twin Tower)ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয় আদালত। সেই মতো শুরু হয় প্রশাসনিক তোড়জোড়। দেশ বিদেশ থেকে ডাকা হয় বিভিন্ন সংস্থাকে। যাতে কুতুব মিনারের থেকেও বড়ো এই বহুতল দু’টো ভাঙার ফলে আশপাশের এলাকার কোনো ক্ষতি না হয়। এই কাজেই যুক্ত ছিলেন মাদ্রাজ আইআইটি’র গবেষক দল। যার সদস্য ছিলেন পাশকুঁড়ার মৃণাল ভৌমিকও।

মৃণাল জানাচ্ছেন, তিনি সহ চার জন গবষককে ওই কাজে নেন দুই অধ্যাপক তরুণ নস্কর ও বুমিনাথন। বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট কম্পনে আশেপাশের ঘরবাড়ি, মাটির নীচের পাইপলাইনের ক্ষতি হতে পারে। তাঁদের কাজ ছিলো, বিস্ফোরণে কোন অংশগুলো থেকে বেশি কম্পন তৈরি হতে পারে, তা চিহ্নিত করা। এবং কম্পনের পরিমাণ অনুমান করা। কী ভাবে ওই কম্পন কমানো যেতে পারে, তা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। মৃণাল জানান, এপ্রিলে টুইন টাওয়ারে ‘ট্রায়াল ব্লাস্টিং’ হয়েছিলো। তখন তাঁরা কম্পনের ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করে রিপোর্ট দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল সংস্থাকে।

গত রবিবার দুপুরে বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় টুইন টাওয়ার। সেখান থেকে ৫০০ মিটার দূরে অন্য একটি বহুতলের ছাদে অন্যদের সঙ্গে হাজির ছিলেন মৃণাল। তাঁদের দেওয়া তথ্য ও বিস্ফোরণের কম্পনের পরিমাণ যাচাইয়ের জন্য টুইন টাওয়ারের অদূরে বসানো হয় বিশেষ যন্ত্র। বিস্ফোরণের ৩০ মিনিট পর ধ্বংসস্তূপের কাছে গিয়ে মৃণালরা সেই যন্ত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। সূত্রের দাবি, মৃণালদের দেওয়া তথ্য ও ধ্বংসের সময়ের তথ্য মিলে গেছে। স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত গবেষকরা।

আরও পড়ুন: অমানবিক! পরিচারিকাকে মারধর, জিভ দিয়ে প্রস্রাব চাটানোর অভিযোগ বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে

সমস্ত নথি নিয়ে আপাততো মাদ্রাজ আইআইটি’তে ফিরেছেন মৃণালরা। সংবাদমাধ্যমকে মৃণাল জানিয়েছেন, “এরকম বড়ো কাজে যুক্ত থাকতে পেরে সত্যি ভালো লাগছে। টানা চার মাস আমরা কাজ করেছি। যাবতীয় তথ্য আগামী প্রজন্মের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হবে।” এখনো বিস্ময়ের ঘোর কাটেনি মৃণালের। তাঁর কথায়, “প্রথমে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। তার পরেই চোখের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লো টাওয়ার দুটো।”

আরও পড়ুন:“পশ্চিমবঙ্গের বেআইনি নির্মাণের অবস্থা নয়ডার জোড়া বহুতলের মতো হবে”, ফেসবুকে বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা

গোটা দেশের নজর ছিলো টুইন টাওয়ার(Twin Tower) ভাঙার দিকে। টিভির পর্দায় চোখ রেখেছেন বাংলার দর্শকও। আর এই বিপুল কর্মকান্ডে জড়িয়ে থাকলো আরেক বাঙালির নাম। মৃণাল ভৌমিক।

সবার খবর সঠিক খবর পড়তে চোখ রাখুন মহানগর বার্তায়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close