দেশরাজনীতি

‘অন্নদাতাকে দেশদ্রোহী বলা আমাদের কালচারে নেই’, কৃষক আন্দোলনে বিজেপিকে তোপ শিবসেনার

মহানগরবার্তা ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পাঞ্জাব হরিয়ানা সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে অসংখ্য কৃষক নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য পারি দিয়েছেন দিল্লির উদ্দেশ্যে। অন্নদাতা কৃষকদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। এবার সেই আবহেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনে বিরোধীদের মদত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি নেতারা। সেই সঙ্গে কৃষকদের দেশদ্রোহী বলেও উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ। এদিন সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্র সরকারকে সমালোচনায় বিঁধেছেন উদ্ধব ঠাকরে। তিনি বলেন, “যাঁরা আমাদের দেশের মানুষের পেটের খাবার জোগান, তাঁদের দেশদ্রোহী এবং জঙ্গি বলার রীতি আমাদের সংস্কৃতিতে (culture) নেই।”

এখানেই থামেন নি শিবসেনা দলের নেতা উদ্ধব ঠাকরে। এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি আরো বলেন, “বিজেপি বলে মহারাষ্ট্রে নাকি অঘোষিত জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাই যদি হয়, তাহলে বর্তমানে গোটা দেশেই ঘোষিত জরুরি অবস্থা শুরু হয়ে গেছে। কৃষকরা তাঁদের ন্যায্য দাবির জন্য লড়াই করছেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বোঝাপড়া করার পরিবর্তে তাঁদের উপর জলকামান প্রয়োগ করা হচ্ছে। দিল্লির শৈত্যপ্রবাহ সহ্য করতে হচ্ছে তাঁদের।”

কৃষকদের দেশদ্রোহী বলার প্রেক্ষিতে উদ্ধব ঠাকরে আরো বলেন, “কেন্দ্র পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আর চিনি আমদানি করে, আমি জানতে চাই এবার কৃষকদেরও সেখান থেকেই আনাবে কিনা। নাকি কে পাকিস্তানী আর কে নয় সেই সার্টিফিকেট দিতে শুরু করবে?” সরকারের প্রতি তাঁর হুংকার, “তুঘলকি ধাঁচে এই দেশ চালালে দেশের মানুষ তা কিছুতেই সহ্য করবেন না।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কৃষি সংক্রান্ত কেন্দ্র সরকারের তিনটি বিল পাশ হয় পার্লামেন্টে। সরকারের তরফ থেকে এই আইনের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নয়নের দাবি করা হলেও বিরোধী দল গুলি প্রথম থেকেই ছিল এই আইনের বিপক্ষে। তাঁদের দাবি এই আইন আদতে প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরই সাহায্য করবে, কৃষকদের নয়। এই আইনের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকরা।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close