খবররাজ্য

নন্দীগ্রামে মমতার উপর হামলা! শুভেন্দুর বিরদ্ধে প্রমাণ পেশের হুমকি একদা বিজেপি ঘনিষ্ঠ ভোলার

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ ১৯ বছর কেটেছে কথা রাখেননি শুভেন্দু! কল্যাণময় গ্রেফতারি আবহেই এবার ‘ক্ষতিকারক শুভেন্দু’ নিয়ে বিস্ফোরক একদা তাঁরই ‘কাছের লোক’ আরমান ভোলা। বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন আরমান।

কী বললেন তিনি? ‘শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ’ ওই ব্যাক্তি দাবি করেন, ”২০০৩ সাল থেকে ওঁর সঙ্গে ছিলাম। ওঁ অন্যের ক্ষতি করেন। কারওর ভালো চান না। শুধু নিজের ভালো চান।” আরমানের আরও দাবি, ”জেলায় একের পর অশান্তির জন্য দায়ী শুভেন্দু। ওঁর পরিকল্পনাতেই অশান্ত হচ্ছে পরিস্থিতি। ওঁ যে রাজনীতি চান, তাতে অশান্তি বাড়বে।” ওই যুবকের দাবি, নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হওয়ার দিন হলদিয়া থেকে বহিরাগতরা গিয়েছিল। তাঁর কাছে সব প্রমাণ আছে, যা আদালতে দিতেও রাজি বলে জানান আরমান।

কে এই ব্যক্তি? বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে কান পাতলে শোনা যায়। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের নেতা থাকাকালীন দাদার অনুগামী ভোলা। ২০২০ সালে শুভেন্দুর ফুলবদলে দলবদল করে তমলুকের এই পরিচিত চরিত্র। শুধু শুভেন্দু নয়, একাধিক সময়ে অধিকারী পরিবারের একাধিক নেতা, দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দেখা গিয়েছে আরমানকে। এই পরিস্থিতিতে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়েই কাজ করেন আরমান। ২০২১ -এর ১৩ জুন মধ্যরাতে হলদিয়ার নেতাজিনগর টোলপ্লাজা থেকে দুই সঙ্গী-সহ গ্রেফতার হন আরমান ভোলা। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, আরমানের সঙ্গে তাঁর দুই সঙ্গী অরুণাভ কুইতি ও হারাধন মণ্ডল একটি গাড়িতে ছিলেন। সেই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সাত রাউন্ড গুলি ও তিনটি বন্দুক উদ্ধার হয়। কিন্তু এইসব অস্ত্রের কোনও লাইসেন্স দেখাতে পারেননি আরমান। এরপরই দুই সঙ্গী-সহ আরমানকে তমলুক থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ১৪ জুন, ২০২১ সোমবার, অভিযুক্তদের তমলুক জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করেন। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ১৪ দিনের হেফাজতের দাবি জানালেও আদালত ১১ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। যদিও সেই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, ঘনিষ্ঠ নয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়। বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে বহু ভুয়ো মামলা দেওয়া হচ্ছে, এটা সেইরকম হতে পারে।

সূত্রের দাবি, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই শুভেন্দুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কমতে থাকে আরমানের (Arman Bhola)। তৈরি হয় দূরত্ব। ঠিক পরিস্থিতিতেই এবার ‘প্রাক্তন বন্ধু’ই বিস্ফোরক দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিজেপির নবান্ন অভিযান এবং শুভেন্দু অধিকারীর লালবাজারে যাওয়ার পরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আহত হন একাধিক। জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন কলকাতা পুলিশের আধিকারিক দেবজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Debajit Chatterjee)। ঠিক এরপরেই রাজনৈতিক চাপানউতর তৈরি হয় তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ ছোড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। পাল্টা সরব হন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজেও। এবার এই আবহেই আরমান দাবি ভোলা যাবে না কি ফের সৃষ্টি করবে বিতর্ক বলবে সময়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close