আম আদমি

হার না মানার গল্প! পিওন থেকে অধ্যাপক, এই ব্যক্তির লড়াইয়ে কাহিনি অবাক করল বিশ্বকে

মহানগর বার্তা ডেস্ক: বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা কমল কিশোর মণ্ডল। ইচ্ছা থাকলে যে উপায় হয়, লড়াইয়ে টিকে থাকলে যে জেতা যায়, এমনটা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন এই ব্যক্তি। পিওনের চাকরি দিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন প্রথমে। আর সেই পিওন-কমল ৫৫ বছর বয়সে এসে অর্জন করলেন পিএইডি ডিগ্রি। যে কলেজে একসময় চায়ের কেটলি হাতে বেয়ারার কাজ করেছেন, সেখানেই এখন অধ্যাপনার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

বিহারের ভাগলপুর শহরের মুন্ডিচক এলাকার বাসিন্দা কমল। বাবা পেশায় চা বিক্রেতা। ছোটবেলা থেকে অভাব ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকের পর উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও, সেই সময়ে তা সম্ভব হয়নি। ২০০৩ সালে ২৩ বছর বয়সে ডিজি কলেজে নাইট গার্ডের চাকরি দিয়েই অগত্যা কেরিয়ার শুরু করতে হয় তাঁকে।

৬ বছর সেই চাকরি করার পর, ডাক আসে নতুন কর্মক্ষেত্র থেকে। ২০০৯ সালে কমল কিশোরকে পিওন হিসেবে নিয়োগ করা হয় তিলকা মাঝি ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এখানেই জীবনের গতিপথ বদল হয়ে শুরু করে তাঁর। সামাজিক কাজের উপরে স্নাতকোত্তর পড়া শুরু করেন তিনি। তাঁর কথায়, ”পড়ুয়াদের দেখে আমারও পড়তে ইচ্ছা করত, অনুরোধ করি কোনও ব্যবস্থা করার। অবশেষে পড়ার সুযোগ আসে।” আগেই গবেষণা করার অনুমতি চাইলেও ২০১২ নাগাদ সুযোগ আসে তাঁর। ২০১৩ সালে শুরু করেন গবেষণা। চলে চাকরিও। পিওন কমল গবেষণা পত্র জমা করেন ২০১৭ নাগাদ। ডিগ্রি অর্জন করেন ২০১৯-এ এসে। এর মধ্যেই কলেজে পড়ানোর জন্য। ২০২২ সালে ভাগ্য সহায় হয় তাঁর জীবনে। একই বিভাগে অধ্যাপনার জন্য, রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইন্টারভিউ এবং চাকরিতে যোগ দেন তিনি।

”আমি আমার দারিদ্র্য কখনও বাধা হতে দিইনি আমার শিক্ষার পথে। চেষ্টা করেছি সব সামলে পড়তে,” বলছেন কমল নিজেই। এদিকে তাঁর সাফল্যে খুশি তাঁর এগিয়ে যাওযার পথের প্রদর্শকরা। যার অন্যতম অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ”কমল নিজেই নিজের ইন্সপিরেশন। ওঁ গর্ব।”

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
নিজের লেখা নিজে লিখুন
Close
Close